শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫, ০২:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাজারে বেড়েছে সেমাই-কিসমিস, চালসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে: এনসিপি নির্বাচনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে : মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন বিমান বাহিনী প্রধান ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সেন্সরশিপ প্রশ্নে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের মামলা নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান ‘বিমানের টিকিটের দাম বাড়ানোর সুযোগ আর নেই’ এবার মোদিকে যে সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প যারা হত্যা-লুটপাটে জড়িত নন, তাদের রাজনীতিতে বাধা নেই: রিজভী ঈদের আগেই ক্রেতাশূন্য বাজার, চালের সঙ্গে মুরগিও চড়া বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস-মোদি বৈঠকের উদ্যোগ ঝলমলে আলোকসজ্জায় ফুটে উঠেছে ঈদের আমেজ আ. লীগকে ফেরানোর খায়েশ বিপজ্জনক: আসিফ মাহমুদ আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না: জামায়াত আমির

অন্যের মাছ কাটলেও ২৫ বছর নিজের পাতে বড় মাছ জোটে না রাবেয়ার

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক
আপডেট : এপ্রিল ২৪, ২০২২

রাবেয়া খাতুনের বয়স ৬৭ বছর। ৩০ বছর আগে স্বামী মহিরউদ্দিন মারা গেছেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গেই থাকেন তিনি। অভাব-অনটনের সংসার। আছে দুঃখ-কষ্ট। নিজের ও মেয়ের সংসারে সাহায্য করতে বাজারে মাছ কেটে দেওয়ার কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে আয় হলেও আক্ষেপ করে বললেন, ‘প্রত্যেক দিন এত বড় বড় মাছ কাটি দেও। কিন্তু কপালোত বড় মাছ খাওয়া জোটে না।’

রংপুর সিটি বাজারে যেখানে মাছ বিক্রি করা হয়, তার পাশে একটু উঁচু জায়গায় সকাল থেকেই মাছ কাটার কাজ শুরু হয় রাবেয়ার। তাঁর আদি বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া গাড়াগ্রাম হলেও দীর্ঘদিন ধরে নগরের কুকুরুল এলাকায় আছেন। নিজের কোনো জমিজমা নেই। নেই বসতভিটা। থাকেন মেয়ের সংসারেই। স্বামী মহিরউদ্দিন দিনমজুর ছিলেন।

২৫ বছর থাকি এই জায়গাত বসিয়া মানুষের মাছ কাটি দেও। কত মানুষের যে মাছ কাটি দিছোও (দিয়েছেন), তার হিসাব নাই। এক বেলা মাছ কাটিয়া আয় হয় ২০০-৩০০ টাকা। সেই টাকা থাকি ৬০ টাকা মাছ কাটার জায়গা ভাড়া দেওয়া লাগে।

বয়স ৬৭ হলেও শরীর এখনো ভালো আছে রাবেয়ার। তেমন কোনো অসুখও নেই। একটি প্রিন্টের শাড়ি পরে একমনে মাছ কাটার কাজ করেই চলেছেন। বাজার করতে আসা অনেকেই তাঁকে চেনেন। কথা বলতে গেলেই তাঁর সময় চলে যায়। এরপরও সবার সঙ্গে আধো আধো স্বরে কথা বলেন। দরদাম তেমন একটা করা লাগে না। কারণ সবাই জানেন, মাছ কাটায় কত টাকা দিতে হবে।

রোববার সকালে বাজারে মাছ কাটার সময় রাবেয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর থাকি এই জায়গাত বসিয়া মানুষের মাছ কাটি দেও। কত মানুষের যে মাছ কাটি দিছোও (দিয়েছেন), তার হিসাব নাই। এক বেলা মাছ কাটিয়া আয় হয় ২০০-৩০০ টাকা। সেই টাকা থাকি ৬০ টাকা মাছ কাটার জায়গা ভাড়া দেওয়া লাগে।

দীর্ঘক্ষণ কষ্ট করে মাছ কাটাকাটি করতে করতে কোমর লেগে যায় রাবেয়ার। কিন্তু কোনো উপায় থাকে না। জীবিকার তাগিদে তাঁকে এ কাজ করতে হয়।

রাবেয়া আরও বলেন, ‘কত বড় বড় মাছ কাটনো। নদীর মাছ কাটি দেনো। খালি চোখ দিয়া দেখা হইলো। মাগুর, শিং, শোল, বাছা, সরপুঁটি, তেলাপিয়া, ট্যাংরা, রুই, কাতলা মাছ। কিন্তু বড় মাছ খালি কাটাই হইছে। প্যাটোত জোটে না বড় মাছ।’

প্রকারভেদে মাছ কাটার একেক দর। তবে ছোট মাছ কাটতে সময় লাগে বেশি। দামও কম পাওয়া যায়। মাটির মধ্যে একটি কাঠের ওপর বসে দীর্ঘক্ষণ কষ্ট করে মাছ কাটাকাটি করতে করতে কোমর লেগে যায় রাবেয়ার। কিন্তু কোনো উপায় থাকে না। মাছ কেটে দেওয়ার তাগাদা থাকে। সামান্য টাকা পাওয়া যায়। তবে কেউ কেউ খুশি হয়ে কিছু টাকা বেশি দিলেও তা প্রতিদিন হয় না বলে জানান রাবেয়া খাতুন।

আর কয়েক দিন পরে ঈদ। এই ঈদে নতুন শাড়ির আবদার করে বলেন, ‘একখান নতুন শাড়ি পাইলে ঈদের দিন পরনু হয়।’

(তথ্যসূত্র-প্রথম আলো)


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ