সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
‘ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই দেশ এগিয়ে নিচ্ছি’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানকে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি দুর্নীতি উৎসাহিত করবে: ডিআরইউ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এভার কেয়ারে রিজভী তিস্তা নদী বা যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ওয়াকার-উজ-জামান বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানের ১০ বিও হিসাব অবরুদ্ধ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল দোশের ১৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ সময় নিয়েও দুদকে হাজির হলেন না বেনজীর এনবিআর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ছাগলকাণ্ডের মতিউরকে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানোর কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ

ইলিশ রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : মার্চ ৩০, ২০২২

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: সরকার ইলিশের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালী অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের মধ্যে আমরা বাংলাদেশের সকল মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ মাছ পৌঁছে দিতে চাই। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ৩১ মার্চ থেকে ০৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন করবে সরকার।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো: ইয়ামিন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এদেশের নদ নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ফলে ইলিশ দেশের জি আই পণ্যের মর্যাদা পেয়েছে। প্রায় ৬ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক ইলিশ পরিবহণ, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ৩১ মার্চ থেকে ০৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন করা হবে। এবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ” ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, জাটকা ধরলে সর্বনাশ”। এবছর দেশের ইলিশ সম্পৃক্ত ২০ টি জেলায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২ এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া গত ২ বছর করোনা মহামারীর কারণে বড় পরিসরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী সমাবেশ ও নৌর্যালি অনুষ্ঠিত না হলেও বৃহস্পতিবার ৩১ মার্চ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন এবং তৎসংলগ্ন পদ্মা নদীতে নৌ র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এ কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ভোক্তাদেন আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা জাটকা ধরা, কেনা/ বেচা এবং খাওয়া থেকে বিরত থেকে জাতীয় মাছ ইলিশের উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইন সংশোধন করে জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময় নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস করা হয়েছে এবং জাটকার দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চি করা হয়েছে। বিগত ২০০৮ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছপল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন, ২০২০-২১অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধির ফলে ইলিশ আজ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে এসেছে।

তিনি বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জালসহ অন্যান্য অবৈধ জাল নিয়ে নির্বিচারে জাটকা নিধন। এই অবৈধ জাল নির্মূলে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৪ সপ্তাহ দেশের ১৭ টি জেলায় বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে মোট ৩০ দিনে মোট ৮৮৪ টি মোবাইল কোর্ট ও ৩৫৪৬ টি অভিযান পরিচালনা করে ৪২১৭ টি বেহন্দি জাল, ৪৬৯ দশমিক ৫২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৯৫৬২ টি অন্যান্য জাল যেমন বেড়জাল, চরঘড়া জাল, মশারি জাল, পাইজাল ইত্যাদি অটক করা হয়েছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, বর্তমান সরকার জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিগত ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৬ টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ৫৬ হাজার টন ভিজিএফ বিতরণ করা হয়েছে। যা বিগত বছর থেকে প্রায় ১০ হাজার টন বেশি ছিল। প্রথম কিস্তি মার্চ এপ্রিল মাসের জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টব জেলে পরিবারের জন্য ৪০ কেজি হারে মোট ৩১ হাজার ২৫৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি। ২০২১ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪ জন জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ১১ হাজার ১১৯ টন চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ হাজার জেলে পরিবার মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ভিজিএফ চাল পেয়েছে। ভিজিএফ সহায়তা দেয়া৷ পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার জেলেকে তাদের চাহিদানুযায়ী নানা প্রকার উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।

হাট বাজারে জাটকা বিক্রি বন্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব ড. ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, জাটকা বিক্রি বন্ধের জন্য দেশের হাট বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সকলকে সচেতন করতে হবে৷ এক্ষেত্রে জেলেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বলে জানান তিনি।


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ