উপসাগরের পথে মার্কিন রণতরী, ইরানে হামলার শঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বাতিল
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে শীর্ষস্থানীয় একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় কেএলএম, লুফথানসা এবং এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে তাদের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
যদিও একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এদিকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্থিরতা ও উত্তেজনার জেরে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল, দুবাই এবং রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ দর্শিয়ে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা দুবাইগামী সব পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছে। একই পথে হেঁটেছে ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম; তারা ইরান, ইরাকসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আকাশসীমা দিয়ে চলতে হয় এমন সব রুটের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে।
মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান আশঙ্কাই এভিয়েশন খাতে এই অচলাবস্থা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ওপর খামেনি প্রশাসনের সহিংস দমনের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে ওয়াশিংটন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।
গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি লক্ষ্য করে ইসরাইলের চালানো ১২ দিনের যুদ্ধে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার পথ খোলা রেখেছেন। তবে গত কয়েক দিনে দুই পক্ষই কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলায় সরাসরি যুদ্ধের শঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌ-বহর পাঠাচ্ছি। আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি। আমি অপ্রীতিকর কিছু দেখতে চাই না, তবে আমরা তাদের গতিবিধি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল।
ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান কথা বলতে চায় এবং আমরাও তাদের সাথে আলোচনায় বসব।’
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের আঙুল এখন ‘ট্রিগারে’ রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন বার্তা উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, তেহরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলেও ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
তেহরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমাদের অনেকগুলো জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। ইরানের দিকে আমাদের একটি বিশাল বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি হয়তো এটি শেষ পর্যন্ত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।
উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসা এই শক্তিশালী মার্কিন নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খুব শিগগিরই এই রণতরীগুলো আরব সাগর কিংবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএম তেল আবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে, লুফথানসা ইসরায়েলে শুধু দিনের বেলা বিমান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে দুবাইয়ে সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সবসময় সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
এদিকে, ডাচ এয়ারলাইনস কেএলএম তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরাক, ইরান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমা তারা ব্যবহার করবে না।
লুফথানসা গ্রুপ তাদের ফ্লাইটগুলো শুধু দিনের বেলা চালাচ্ছে এবং ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। এছাড়া, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও এয়ার কানাডাও তেল আবিবে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
মূলত এই অঞ্চলে বেসামরিক বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিমান সংস্থাগুলো এই সতর্কতা অবলম্বন করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ভয়ে ইরান তাদের আকাশপথ চার ঘণ্টার বেশি বন্ধ রেখেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল পুরো বিশ্বে।























