ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় গেলে বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা ও শহর শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। অতীতে যারা ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাদের পরিণতি মানুষ দেখেছে। এখনো যারা নানা কৌশলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চায়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা হলো, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না।

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অসম্মানিত করতেও চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। প্রতিটি যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। পরে তিনি বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষমতায় গেলে বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৪:২৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা ও শহর শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। অতীতে যারা ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাদের পরিণতি মানুষ দেখেছে। এখনো যারা নানা কৌশলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চায়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা হলো, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না।

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অসম্মানিত করতেও চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। প্রতিটি যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। পরে তিনি বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।