বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের উপকারভোগীর ৬০ লাখ হচ্ছে

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : এপ্রিল ৪, ২০২২

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: চালসহ বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস দূর করে স্বস্তি দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের উপকারভোগীদের সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ইতোমধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে উপকারভোগীদের সংখ্যা ৬০ লাখ করার প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা পেলেই বর্ধিত উপকারভোগীরা এ সুযোগ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০.১১ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে সরকারের‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন। পরিবারগুলোকে ১০ টাকা কেজিদরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। পল্লী অঞ্চলের মানুষ কর্মহীন সময় হিসেবে পরিচিত মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর- এই পাঁচ মাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুই  পর্যায়ে এ সুবিধা ভোগ করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে চাল, ভোজ্যতেলসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বিধিনিষেধ থাকায় সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। অনেকে হারিয়েছেন কর্মসংস্থান। করোনা পরিস্থিতি যখন উন্নতি দিকে, স্বাভাবিক হচ্ছে সবকিছু। এরসঙ্গে সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে প্রভাব ফেলেছে বাজার দরে। এতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সংকটে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে।

মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের নানা উদ্যোগও রয়েছে। বিস্তৃত পরিসরে খোলাবাজারে (ওএমএস) চলছে চাল ও আটা বিক্রি। টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি দরিদ্র পরিবারকে স্বল্পমূল্যে দেওয়া হচ্ছে নিত্যপণ্য। এ অবস্থায় ১০ টাকা কেজিদরে চালের সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রাথমিকভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের সংখ্যা ১০ লাখ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচিত হলেও এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৬০ লাখে উন্নীত করার একটি বিষয় রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সেই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটার সঙ্গে যেহেতু আর্থিক বিষয় জড়িত, তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বিষয় আছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে হয়তো অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। অফিসিয়ালি আমরা এখনো অনুমোদন পাইনি। প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো আমরা করছি।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হিসাব-নিকাশ চলছে। উপকারভোগীর সংখ্যা কত বাড়ালে জনগণ স্বস্তি পাবে, চালের দাম কম থাকবে, সেটি বিবেচনা করেই বাড়ানো হবে।’

গত ১৭ মার্চ উপজেলাভিত্তিক বিভাজন অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের সংখ্যা জানানোর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ৫০ লাখ উপকারভোগী থাকার কথা। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বিভাগভিত্তিক উপকারভোগী উল্লেখ করা হয়েছ ৫০ লাখ ১০ হাজার ৭১০ জন। তবে উপকারভোগীর জেলা, উপজেলাভিত্তিক বিভাজন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। এ কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক হালনাগাদ সংখ্যা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায় জরুরিভাবে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক ৫০ লাখ ১০ হাজার ৭১০ জন উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করে মহাপরিচালককে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হলে, তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত আছি। মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তালিকা করেছেন জেলা প্রশাসক ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সংখ্যা বাড়ানো হলে তারা বসে নতুন উপকারভোগীদের যুক্ত করবেন। মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে, সেভাবে আমরা বাস্তবায়ন করবো।’

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৬ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অতিরিক্ত এক মাসসহ মোট ছয় মাস (২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২০ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে) এ কর্মসূচির আওতায় চাল বিক্রি করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ