বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মন্ত্রী-এমপির আত্মীয়দের কাছে জিম্মি স্থানীয় জনগণ: রিজভী এক ব্যক্তির এক কথায় দল পরিচালিত হবে না: রওশন এরশাদ বিএনপি যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া: কাদের রোববার খুলছে স্কুল-কলেজ, মাউশির প্রজ্ঞাপন জারি বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজ ডুবি, ১১ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ১ তীব্র তাপপ্রবাহে থাইল্যান্ডে ৩০ মৃত্যু, সতর্কতা জারি উপজেলা নির্বাচনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হবে: সিইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে মিয়ানমার সেনাসহ ২৮৮ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি যুদ্ধ কখনও কোনো সমাধান দিতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী শপথ নিলেন নবনিযুক্ত আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত ইসরাইল-ইউক্রেন সহায়তা আইনে বাইডেনের সই ‘ত্রিমুখী’ শিরোপার রেসে পিছিয়ে লিভারপুল

জানুয়ারিতে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, খরচ একলাখের নিচে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : ডিসেম্বর ২১, ২০২১

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: আগামী বছরের (২০২২ সাল) জানুয়ারি মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

তিনি বলেছেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। কর্মীরা ন্যূনতম খরচে সেখানে যেতে পারবেন। সে ব্যয় কোন অবস্থাতেই এক লাখ টাকার বেশি হবে না। কারণ, অভিবাসন প্রত্যাশী কর্মীদের ব্যয়ের বেশিরভাগই বহন করবে দেশটির চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।

একইসঙ্গে মন্ত্রী মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যাপারে কারও সঙ্গে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে গত ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির ফলে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর ফের উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।

দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া। দেশটির সব সেক্টরে কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ। বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে দেশটি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা বারবার ব্যাহত করেছে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি। তাদের তৈরি সিন্ডিকেটের অবৈধভাবে এ বাজার দখলের চেষ্টায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এবারের সমঝোতা স্মারকে বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জিটুজি প্লাস পদ্ধতি উল্লেখ থাকছে না, যুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সি, থাকছে কর্মীদের বাধ্যতামূলক বিমা, কর্মীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও খরচ বহন করবে নিয়োগদাতা, চুক্তি মেয়াদে কর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সিকেও, বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত। তবে কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে অভিবাসন ব্যয় বা খরচ কতো হবে, তা শিগগির জানা যাবে।

ইমরান আহমদ বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী কর্মীর আসা যাওয়ার টিকিটসহ মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচ নিয়োগকর্তার। এখানে কর্মীর খরচ বলতে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসার খরচ, পাসপোর্ট তৈরি বিএমইটি ফি, কল্যাণ বোর্ডের সদস্য ফি, মেডিক্যাল ফি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ।’

‘মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচের মধ্যে আছে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় গমনের প্লেন ভাড়া, আবাসন, কর্মে নিয়োগ। কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ নিয়োগ কর্তা  বহন করবেন। নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত খরচসহ সকল ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করবেন, জানান তিনি।

ইমরান বলেন, ‘আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০-৬৫ যাই থাকুক না কেন, এখন তা থেকে অনেক কমে আসবে। কারণ সেই ব্যয়ের বেশিরভাগ খরচই নিয়োগকর্তা বহন করবেন। আগে বিমান ভাড়া আমাদের কর্মীরা দিতেন, যার কারণে ওই ব্যয় ছিল। এবার আশা করি, অনেক অনেক কমে যাবে। আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সির চার্জ যাই হোক, সেটা আমাদের কর্মীদের ওপর পড়বে। মালয়েশিয়ার অংশেরটা নিয়োগকর্তা দেবেন। সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা নেই। তবে আইডিয়া করা যায় দুই তিন মাসের বেতনের বেশি হওয়া উচিত না।’

সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ‘অভিবাসন আইন অনুযায়ী আমরা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করতে পারি। সেটা করে একটা ধারণা দিতে পারি, খরচ কেমন হতে পারে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোকে সর্বোচ্চ কত টাকা নিতে পারবে, সেটা নির্ধারণ করবো।’


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ