মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে মন্দিরগামীদের নিয়ে নৌকাডুবি, ২৪ জনের লাশ উদ্ধার, অনেকেই নিখোঁজ ডিএনসিসি মেয়র, ওয়াসা এমডিকে কারাগারে পাঠাতে চান নদী কমিশন চেয়ারম্যান নতুন মূল্য নির্ধারণ: পাম অয়েলে কমলো ১২ টাকা, চিনিতে ৬ টাকা বেনজীরের বিদায়, পুলিশের নতুন আইজি মামুন, র‌্যাবের ডিজি খুরশীদ ডলারে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ থেকে মুক্ত ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি কর্তারা শত অনিয়মের আখড়া ছিল ই-ভ্যালি, ছিলনা আয়-ব্যয়ের হিসাব ১৬ কোটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনার ল্যাব থাকলেও টেস্ট ছাড়াই হালাল সনদ দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও সোনার বাংলা ক্যাপিটাল’র আমানত-দায় শেয়ারে রূপান্তর, চুক্তি সকল শক্তি দিয়েও নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা: টুকু হংকংকে হারিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করল ভারত প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা ষড়যন্ত্রে সরকারি দলের লোকজন জড়িত হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া বিএনপি-জামাতের সম্পর্ক ভেতরে অটুট: কাদের দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

আহমেদ সিরাজ
আপডেট : আগস্ট ১২, ২০২২
জ্বালানি তেলের প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মতিঝিল, কাপ্তানবাজার, যাত্রাবাড়ী, টিকাটুলি, স্বামীবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে—প্রতিটি পণ্যের দাম চড়া।

বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনও চাল নেই। দাম বেড়েছে মাছ-গোশতসহ সব ধরনের পণ্যে। এমনকি ‘গরিবের প্রোটিন’ ডিমও ডজনে ছুঁয়েছে ১৫০ টাকা। সাধ ও সাধ্যের বাইরে চলে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার সঙ্কট ও হঠাৎ তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু বেড়েছে।

কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। তবে, কোনো কোনো ব্যবসায়ী ১৯০ টাকা কেজিও বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

বেড়েছে ডিম, মাছ, সবজি ও ফলের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে ডিম ডজনে ১৫ থেকে ২০, সবজি কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা দোকানে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাক ভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। যার কারণে কৃষক পর্যায়ে সবজির কেজি সাত-আটে নামলেও রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার কমে কোনও সবজি বিক্রি হয় না।

একাধিক বিক্রয়কর্মী বলেন, পরিবহন খরচ বাড়তি এবং বাজারে মুরগির সরবরাহ কম হওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত মুরগির দাম বেড়েছে। ১৫০-১৬০ টাকা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০। সোনালি মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০-৩০০ টাকায়, যার দাম ছিল ২৭০-২৮০ টাকা। দেশি মুরগির কেজি ৫২০ টাকা ছিল। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। বাজারভেদে খুচরায় সেসব চালই কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। ফলে খুচরা বাজারে এখন যে কোনও মোটা চালই ৫২ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬৫ টাকা। ৪ আগস্ট বিক্রি হওয়া ৪৮ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ৭২ টাকার নাজিরশাইল ৮০, ৭১ টাকার কাটারিভোগ ৭৩, ৭৮ টাকার বাসমতী ৮২ এবং ১০৮ টাকার চিনিগুড়া বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে সব ধরনের চালের দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। নোয়াখালী রাইস মিলের ঈমাম হোসেন বলেন, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায় প্রতি কেজি চালে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চিকন চালের মধ্যে মিনিকেট প্রকারভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫, নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৮৫ এবং মোটা চাল (আটাশ) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়।

বাজারে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

এদিকে, বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। আর, আজ বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। বোতলজাত সরিষার তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। অপরদিকে, বেড়েছে পামঅয়েলের দামও। গত সপ্তাহে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এক কেজি পামঅয়েল। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।

অন্যদিকে আটা, ময়দা, চিনি, লবণের দামও বেড়েছে। নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে জানা গেছে, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটায় বেড়েছে ১৫০-১৮০ টাকা। ময়দায় ৭০, চিনিতে বেড়েছে ১৫০ টাকা। গত সপ্তাহেও লবণ ৩৫, খোলা চিনি ৮০, প্যাকেট চিনি ৮৫ ও খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কেজিপ্রতি দাম বেড়ে লবণ ৩৮, খোলা চিনি ৮৫, প্যাকেট চিনি ৯০ ও আটা ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারে সবজি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সবকিছু একসঙ্গে বেড়ে গেছে। আমাদের অনেক বেশি দিয়ে কিনে আনতে হয়।’ এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ