ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শীতের তীব্রতা বাড়বে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে শীত নামার গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। সকালে কনকনে ঠান্ডা, দুপুরে ম্লান রোদ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে বাড়ছে ভোগান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। দেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর এবং রাজশাহীতেই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব বেশি অনুভূত হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ এখনও বাংলাদেশের উপকূল থেকে দূরেই অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়টি বাংলাদেশের দিকে আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সমুদ্র এখনও উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ বলছেন, ডিসেম্বরে সমুদ্রের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল থাকে না। তাই বছরের বাকি সময় উপকূলে কোনো ঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় কৃষকরা স্বস্তিতে আছেন। আলু, ভুট্টা, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন শস্যের রোপণ গতি পেয়েছে।’

এদিকে পঞ্চগড়ে শীতের দাপট দিন দিন আরও বাড়ছে। আজ (সোমবার, ১ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। টানা ৬ দিন ধরে এ উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকায় ভোর ও সকালে শীত অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।

সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে। ভোরে হালকা কুয়াশা থাকলেও ঘন কুয়াশার দেখা মেলেনি। সকাল বাড়ার সঙ্গে আকাশে রোদ উঠলেও শীতের দাপট কমেনি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সকালে বেশিরভাগ ফ্লাইটই কমপক্ষে আধা ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। যাত্রীদের অনেকেই বারবার সময় বদলের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হলেই ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, এখনই কোনো ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেই।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এই সময়টিই হবে এ মৌসুমের সবচেয়ে শীতল পর্ব। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের বড় অংশ কাঁপতে পারে। এতে কৃষিকাজ, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি বাড়বে।

এদিকে উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে ধীরে ধীরে বাড়ছে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশা। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভোর থেকে বইছে হিমেল হাওয়া, বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব। বিশেষ করে ভোর ও রাতের শেষ ভাগে শীত ও ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থায় কাবু হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘শীত ধীরে ধীরে নামছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত আরও তীব্র হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

দেশের উত্তরাঞ্চলে এরইমধ্যে শীতের পূর্ণ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, আর সামনে রয়েছে আরও কঠিন শীতের ইঙ্গিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শীতের তীব্রতা বাড়বে

আপডেট সময় : ১১:৫৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে শীত নামার গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। সকালে কনকনে ঠান্ডা, দুপুরে ম্লান রোদ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে বাড়ছে ভোগান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। দেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর এবং রাজশাহীতেই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব বেশি অনুভূত হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ এখনও বাংলাদেশের উপকূল থেকে দূরেই অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়টি বাংলাদেশের দিকে আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সমুদ্র এখনও উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ বলছেন, ডিসেম্বরে সমুদ্রের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল থাকে না। তাই বছরের বাকি সময় উপকূলে কোনো ঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় কৃষকরা স্বস্তিতে আছেন। আলু, ভুট্টা, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন শস্যের রোপণ গতি পেয়েছে।’

এদিকে পঞ্চগড়ে শীতের দাপট দিন দিন আরও বাড়ছে। আজ (সোমবার, ১ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। টানা ৬ দিন ধরে এ উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকায় ভোর ও সকালে শীত অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।

সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে। ভোরে হালকা কুয়াশা থাকলেও ঘন কুয়াশার দেখা মেলেনি। সকাল বাড়ার সঙ্গে আকাশে রোদ উঠলেও শীতের দাপট কমেনি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সকালে বেশিরভাগ ফ্লাইটই কমপক্ষে আধা ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। যাত্রীদের অনেকেই বারবার সময় বদলের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার হলেই ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, এখনই কোনো ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেই।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, এই সময়টিই হবে এ মৌসুমের সবচেয়ে শীতল পর্ব। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের বড় অংশ কাঁপতে পারে। এতে কৃষিকাজ, পরিবহন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি বাড়বে।

এদিকে উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে ধীরে ধীরে বাড়ছে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশা। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভোর থেকে বইছে হিমেল হাওয়া, বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব। বিশেষ করে ভোর ও রাতের শেষ ভাগে শীত ও ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থায় কাবু হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘শীত ধীরে ধীরে নামছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত আরও তীব্র হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

দেশের উত্তরাঞ্চলে এরইমধ্যে শীতের পূর্ণ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, আর সামনে রয়েছে আরও কঠিন শীতের ইঙ্গিত।