ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২ ৫১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুসংখ্যা দুই শ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনসহ মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২০২ জনের। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরেই মারা গেছে ৬১ জন। এই মৃত্যু আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেঙ্গু এখনই নিয়ন্ত্রণে আসছে না বরং পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

বর্তমান সময়ে সব হাসপাতালেই এখন ডেঙ্গুরোগীর ভিড় চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা শাকিল মাকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে । এখানে এসে সেও এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এখন দুজনই অসুস্থ, কিন্তু দেখার কেউ নেই।

এছাড়া সাত দিন ধরে জ্বর কমল কান্তের। রোববার দুই মেয়ের সাথে হেঁটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন। দুই ঘণ্টার মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে। এমন আরও অনেকে আছেন যারা হঠাৎ করেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শেষ মুহুর্তে এসেছেন হাসপাতালে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এ মাসে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই ডেঙ্গু ‘শক সিনড্রোমে’। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান শক সিনড্রোম বলতে বলছেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। যারা আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দ্বিতীয়বার এই চারটি ধরনের অন্য আর একটি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তারাই মূলত শক সিন্ড্রোমে চলে যান বেশি’।

তিনি আরও জানান, ‘দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুর অন্য ধরন দিয়ে যদি সে আক্রান্ত হয় তখন শরীরে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। এতে পালস, রক্তচাপ কমে যায়, শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায়, বিভিন্ন অঙ্গের কোষে যে অক্সিজেন দরকার সেই অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ব্রেইন, হার্ট, কিডনি এগুলোতে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে না পেরে অঙ্গগুলো আস্তে আস্তে কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শক সিনড্রোম হলে তাকে বাঁচানো কঠিন’।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ আশঙ্কা করছেন, আগামী বছর আরও অবনতি হতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।

দেশে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ১৮৯ জন। গত অক্টোবর মাসে প্রায় ২২ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৮৬ জন।

এর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বড় আকারে দেখা দেয় ২০১৯ সালে। ওই বছর ডেঙ্গুতে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অতীতে দেখে গেছে, অক্টোবর–নভেম্বরের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসে। কিন্তু এ বছর কোন ভাবেই যেন ডেঙ্গুর লাগাম টানা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২

দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুসংখ্যা দুই শ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনসহ মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২০২ জনের। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরেই মারা গেছে ৬১ জন। এই মৃত্যু আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেঙ্গু এখনই নিয়ন্ত্রণে আসছে না বরং পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

বর্তমান সময়ে সব হাসপাতালেই এখন ডেঙ্গুরোগীর ভিড় চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা শাকিল মাকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে । এখানে এসে সেও এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এখন দুজনই অসুস্থ, কিন্তু দেখার কেউ নেই।

এছাড়া সাত দিন ধরে জ্বর কমল কান্তের। রোববার দুই মেয়ের সাথে হেঁটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আসেন। দুই ঘণ্টার মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে। এমন আরও অনেকে আছেন যারা হঠাৎ করেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শেষ মুহুর্তে এসেছেন হাসপাতালে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এ মাসে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই ডেঙ্গু ‘শক সিনড্রোমে’। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান শক সিনড্রোম বলতে বলছেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে। যারা আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দ্বিতীয়বার এই চারটি ধরনের অন্য আর একটি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তারাই মূলত শক সিন্ড্রোমে চলে যান বেশি’।

তিনি আরও জানান, ‘দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুর অন্য ধরন দিয়ে যদি সে আক্রান্ত হয় তখন শরীরে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। এতে পালস, রক্তচাপ কমে যায়, শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায়, বিভিন্ন অঙ্গের কোষে যে অক্সিজেন দরকার সেই অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ব্রেইন, হার্ট, কিডনি এগুলোতে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে না পেরে অঙ্গগুলো আস্তে আস্তে কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শক সিনড্রোম হলে তাকে বাঁচানো কঠিন’।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ আশঙ্কা করছেন, আগামী বছর আরও অবনতি হতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।

দেশে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ১৮৯ জন। গত অক্টোবর মাসে প্রায় ২২ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৮৬ জন।

এর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বড় আকারে দেখা দেয় ২০১৯ সালে। ওই বছর ডেঙ্গুতে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অতীতে দেখে গেছে, অক্টোবর–নভেম্বরের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসে। কিন্তু এ বছর কোন ভাবেই যেন ডেঙ্গুর লাগাম টানা যাচ্ছে না।