শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিসেম্বরেও উৎপাদনে যাচ্ছে না পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে দিল্লি, মুম্বাইসহ বেশ কিছু রাজ্য গাজার মানবিক অঞ্চলে বিমান হামলা, নিহত ৭১ গাজার ৭০ হাজারের বেশি মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত নেপালে ১৬ বছরে ১৪ বার সরকার বদল? যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন করে কোটি টাকা খুইয়েছে আইসিসি ‘পদক নয়, নিজেদের উন্নতি করতে অলিম্পিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার : শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: ওবায়দুল কাদের দেশে বদলে যাচ্ছে বন্যার ধরন গণতন্ত্রের জন্যও শিক্ষার্থীদের লড়াই করার আহ্বান আমির খসরুর সরকার পতনের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: মান্না কোটা সংস্কারের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতাবিরোধীরা: আইনমন্ত্রী বাজারে সব পণ্যেই হাকিয়েছে সেঞ্চুরি

দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : আগস্ট ১৭, ২০২২
দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা

মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। কিছু কিছু ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে বেশিরভাগের। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ২০টি ব্যাংক। খেলাপি বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাকি ১৫টি বেসরকারি খাতের। ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই আছে এই ২০টি ব্যাংকে। বাকি ৪১টি ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা ২০টি ব্যাংকের দায় ৯৩ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের তিন চতুর্থাংশ।

শীর্ষে থাকা ২০টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে। ছয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। ঠিক ছয় মাস পর চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক। কারণ আলোচ্য ছয় মাসে তিন হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ হাজার ৯৫৬ কোটি। তবে ছয় মাসের ব্যবধানে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকার ঘরে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। এই ছয় মাসে দুই হাজার ৮০২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি বেড়ে ১০ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে ব্যাংকটি। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৮৯৩ কোটি বেড়ে ১২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ৮৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দুই হাজার ৭৯৩ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে চার হাজার ৫১১ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫১৪ কোটি টাকা বেড়ে দুই হাজার ৩২৭ কোটি, পূবালী ব্যাংকের ৪৭৯ কোটি টাকা বেড়ে এক হাজার ৫৭২ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকা বেড়ে জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির শীর্ষ ২০ এর তালিকায় থাকা ব্যাংগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ছয় মাসে ৩৯৭ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাংকটির। এনআরবিসি ব্যাংকের বেড়েছে ৩৪৬ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৩৩১ কোটি, এবি ব্যাংকের ৩১৫ কোটি, উত্তরা ব্যাংকের ২৯২ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ২৮৫ কোটি, ঢাকা ব্যাংকের ২৭৯ কোটি, এনসিসি ব্যাংকের ২৭৭ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ২৬৩ কোটি এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২২ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮.৯৬ শতাংশ। তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি বেড়েছে ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে খেলাপি বাড়বেই। এখন যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে এর ফলে ব্যাংকের ভাল গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হয়। কারণ ঋণটি খেলাপি হলেই মিলবে নতুন নতুন সুযোগ। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে না পারলে আর্থিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ