বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তীব্র তাপপ্রবাহে থাইল্যান্ডে ৩০ মৃত্যু, সতর্কতা জারি উপজেলা নির্বাচনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হবে: সিইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে মিয়ানমার সেনাসহ ২৮৮ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি যুদ্ধ কখনও কোনো সমাধান দিতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী শপথ নিলেন নবনিযুক্ত আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি নিহত ইসরাইল-ইউক্রেন সহায়তা আইনে বাইডেনের সই ‘ত্রিমুখী’ শিরোপার রেসে পিছিয়ে লিভারপুল শেফিল্ডকে হারিয়ে জয়ে ফিরল ম্যানইউ কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে আটালান্টা লজ্জার রেকর্ড গড়লেন মোহিত শর্মা তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হাসপাতালে ভর্তি সৌদি বাদশাহ সালমান

ধর্মীয় গোঁড়ামি কখনই বাঙালির ওপর চেপে বসতে পারে নাই: জয়

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : এপ্রিল ১৫, ২০২২

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন ‘ইতিহাস বলে, ধর্মীয় গোঁড়ামি কখনই বাঙালির ওপর দীর্ঘমেয়াদে চেপে বসতে পারেনি। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকই ধর্মপ্রাণ মুসলমান।কিন্তু ধর্মান্ধ নন।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই একসময় বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষার জন্য ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে মাত্র ৯টি আসন পেয়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় ধর্ম ব্যবসায়ীরা।বাংলার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে সরলপ্রাণ ও ধর্মপ্রাণ। কিন্তু ধর্ম প্রদর্শনকারী বা ধর্মব্যবসায়ী নয়।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন- দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে যে চারটি স্তম্ভের ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’।’

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সবাই সবার নিজের ধর্ম পালন করবে। অন্যদের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। ধর্ম নিয়ে কেউ সহিংসতা করবে না। এটাই হলো ধর্মনিরপেক্ষতার মূল কথা। এর সঙ্গে নৃতাত্ত্বিকভাবে চলে আসা বাঙালি সংস্কৃতির কোনও বিভেদ নেই।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘সাংস্কৃতিকভাবে আমরা অনেক সমৃদ্ধ জাতি। নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন থেকেই বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীন দেশে নিজেদের সংস্কৃতি লালন করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘যে ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য প্রায় দুই যুগ সংগ্রাম করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা, যে শোষণমুক্ত সাম্যভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় আজ সেই দেশ ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে বলেন, পূর্বপুরুষদের অনিঃশেষ ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এদেশে চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। আবহমান বাংলার প্রধানতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো অসাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সবাই মিলেমিশে থাকা। শান্তি ও সমৃদ্ধির আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হোক নতুন বছর।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বাংলা ভাষা এবং হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক আমাদের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে। করোনামুক্ত দেশে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনুক এবারের বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই সম্প্রীতির পথে হাঁটতে শুরু করুক সবাই।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বাঙালি শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করুন। একইসঙ্গে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করুন। যারা এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়, তারা বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আসুন আমরা সবাই জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।’


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ