নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হচ্ছে উপকূলবাসীকে
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২ ৩২ বার পড়া হয়েছে
ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ বাংলাদেশের উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ‘সিত্রাং’র প্রভাবে বরিশাল, খুলনাসহ দেশের সাত বিভাগে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে হতে পারে পাহাড়ধস। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া ভোলা, বরিশাল, বড়গুনা, খুলনা, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব ধরনের পস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। নগরীর উপক‚লীয় এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেনজেলা প্রশাসক। প্রস্তুত ভলান্টিয়ারাও।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে গভীর সাগরে চলে যাওয়াসহ পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক।
ভোলায় ঘুণিঝড় মোকাবেলায় ৭৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র, ৮টি কন্ট্রোল রুম ও ১৩ হাজার ৬৬০জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও সাতটি উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এবং জেলার বিচ্ছিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হচ্ছে।
ক্ষতি এড়াতে খুলনায় মাঠে কাজ শুরু করেছে রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক দল। সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা উপজেলা নিবাহি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, জেলার ৪০৯ টি ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনা জেলা দুযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে বলে জানান খুলনা জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার।
এদিকে, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে এবং সাথে দমকা বাতাস ও বইছে। বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। আর নিম্ন অঞ্চলের জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ৮০৫ কিলোমিটার বেরি বাঁধের মধ্যে ১০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারি-বেসকারিভাবে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বরিশালে। বিভাগীয় প্রশাসন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, সিপিপি জানায়, বিভাগের ৩ হাজার ৯৭৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত ও শুকনো খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৩২ হাজার ৫শ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিত্রাংয়ের গতিবেগ কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল অভিমুখে আঘাত হানবে কি না তা বোঝা যাচ্ছে না।
আর ঝালকাঠিতে ৬১ সাইক্লোন সেন্টার ও ৪২৭টি বিদ্যালয়ে মোট ৪৮৮ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত বলে জানান জেলা প্রশাসক জোহর আলী।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাসহ সাতক্ষীরা জেলার সর্বত্র টানা বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া বইছে। সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তায় উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে। এরপর উপকূলে শুরু হয়েছে মাইকিং। মোড়ে মোড়ে উড়ানো হয়েছে লাল পতাকা। বৃষ্টিপাত বাড়ছে সাথে সেই সাথে বাতাসের মাত্রাও বাড়ছে। উপকূলে ৫ থেকে ৮ ফুট জলোচ্ছ¡াসের শংকার কথা জানান সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন।
এদিকে, যশোরে ভোর রাত থেকে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। থেমে থেমে দমকা হাওয়া বইছে। সড়কে যানবাহন চলাচলও কম ছিল। এতে অফিসমুখী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ জরুরি সভা করে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।


























