মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের সব জায়গায় কাল থেকে সতর্ক পাহারায় থাকবে আ. লীগ: সেতুমন্ত্রী রাজধানীর নতুন যে জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি হলো না ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না : প্রধানমন্ত্রী রাস্তায় পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত বিধ্বস্ত পাওয়ার গ্রিড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নেবে রাশিয়া, লাগবে না ভাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা- প্রধানমন্ত্রী নতুন বছরের ‘শুরুতেই’ দ্বিতীয় মেয়াদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বাইডেন গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন ৪ জানুয়ারি ব্রাজিলের জয় নিয়ে যা বললেন বুবলী অসুস্থ পেলেকে জয় উৎসর্গ করলেন নেইমাররা ফেরি চলাচল ব্যাহত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: কৃষিমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : ডিসেম্বর ১১, ২০২০

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, ভাস্কর্য ভাঙ্গার সঙ্গে জড়িতদের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী তাদের এই কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এই আইনেই তাদের বিচার হবে। তাদেরকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
কৃষিমন্ত্রী শুক্রবার টাঙ্গাইলের পৌর পার্কে টাঙ্গাইল পৌরসভা আয়োজিত টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরে বিএনপি জড়িত ও তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি এদের সাথে জোট করে ক্ষমতায় এসেছিল। ভাঙচুরে অবশ্যই তাদের যোগসাজশ আছে। কিন্তু বিচার করতে গেলে প্রমাণ লাগে। প্রমাণসাপেক্ষে অবশ্যই তাদের বিচার হবে। তারা যদি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে অবশ্যই তাদের বিচার করা হবে। যারা যারা অপরাধ করেছে তারা কেউই রেহাই পাবেন না বলেও জানান তিনি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ৯মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যেভাবে পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করা হয়েছে, তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকারীদের পরাজিত করা হবে বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে যেমন ধ্বংস করা যাবে না তেমনি কেউ যদি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে বা ভাঙে তাহলে তাদেরকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো মোকাবেলা করে আবারও পরাজিত করা হবে। তাদেরকে আবার জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
ড. রাজ্জাক বলেন, ‘যেভাবে পাকিস্তানী ও দোসরদের পরাজিত করা হয়েছে, তারা আমাদের পায়ের নিচে অস্ত্র সমর্পণ করেছে, আজকে যারা মনে করছে এ দেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তালেবানীয় আফগানিস্তান বানাবে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে, তাদেরকে একাত্তরের মতো আবারও পরাজিত করা হবে’।
ড. রাজ্জাক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশটিকে শুধু স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে চাননি, বরং দেশটিকে তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সবদিক দিয়ে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ন্যায়-সমতার ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি দেশীয়-আন্তর্জাতিক ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তারপর থেকে ২১ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। যার ধারাবাহিকতা হলো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা ও ভাঙচুর।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয়। ভাস্কর্যের একটা নান্দনিক দিক রয়েছে, এটি একটি শিল্প। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে করে তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে এ দেশের ভবিষ্যত বা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, জাগরূক রাখা যায়। ভাস্কর্য হচ্ছে স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক। এর মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানবপ্রেমে ও মানবসেবায় ব্রতী হবে।
আজ টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে। ১১ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বিরাট বাহিনী নিয়ে টাঙ্গাইল পুরোনো শহরে প্রবেশ করেন এবং থানা চত্বরে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও তানভীর হাসান ছোটমনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ