ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ আন্দামানে লঘুচাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মে ২০২২ ৭০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীসহ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ আন্দামানের কাছে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরের উত্তাপ বেড়ে যাওয়ায় লঘুচাপটি আজ রাতের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে তা শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হোক বা না হোক, আগামী এক সপ্তাহ দেশের আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে।

তবে, এ সপ্তাহে সাগরে একদিকে নিম্নচাপের আশঙ্কা। আর দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দিনে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এতে এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।

আগামী ৭২ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একই সময়ে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লঘুচাপটি দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। ফলে আগামী দু-তিনের আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে শেষ পর্যন্ত কেমন শক্তি নিয়ে কোথায় আঘাত করতে পারে। আন্দামান সাগরের যে এলাকায় লঘুচাপটি তৈরি হয়েছে, সেখানকার তাপমাত্রা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

গত এক যুগে আটটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে মে মাসে। এই মাসেই বয়ে গেছে আইলা, আম্ফান, ইয়াসের মতো প্রলয়ঙ্করী ঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বেশ ক-বছর ধরে এই সময়ে, বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। একই সময়ে স্থলভাগের তাপমাত্রাও থাকছে বেশি। তাই বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়।

এরই মধ্যে আবার ঘূর্ণিঝড় অশনির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; তবে এর গতিপথ বোঝা যাবে রোববার। তার আগে এর প্রভাবে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি।

মে মাস এলেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব চলে দেশে। গেলো বছরের ২১ মে সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চলের আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। জলোচ্ছ্বাস হয় প্রায় ৮ ফুট উঁচু। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় লোকালয়, মাছের ঘেরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এর আগের বছর ১৬ মে সুন্দরবন উপকূলে প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।

২০০৯ সালের মে মাসের ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলের অনেক বাসিন্দা।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গেলো এক যুগে (২০০৮-২০২১) ১০টি ঘূর্ণিঝড়ের ৮টিই হয়েছে মে মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, এই মাসে হঠাৎ করে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।

এবারো মে মাসেই বঙ্গোপসাগরে দেখা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই সময়ে দক্ষিণ আন্দামানে যেসব লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, সেসবের গতিপথ থাকে সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিকে; যা আঘাত হানতে পারে সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চলে। তবে রোববারে বোঝা যাবে এর গতিপথ ।

লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নাম হবে অশনি। আবহাওয়া অফিস বলছে, এর প্রভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তার আগে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ আন্দামানে লঘুচাপ

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মে ২০২২

রাজধানীসহ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ আন্দামানের কাছে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরের উত্তাপ বেড়ে যাওয়ায় লঘুচাপটি আজ রাতের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে তা শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হোক বা না হোক, আগামী এক সপ্তাহ দেশের আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে।

তবে, এ সপ্তাহে সাগরে একদিকে নিম্নচাপের আশঙ্কা। আর দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দিনে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এতে এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।

আগামী ৭২ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একই সময়ে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লঘুচাপটি দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। ফলে আগামী দু-তিনের আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে শেষ পর্যন্ত কেমন শক্তি নিয়ে কোথায় আঘাত করতে পারে। আন্দামান সাগরের যে এলাকায় লঘুচাপটি তৈরি হয়েছে, সেখানকার তাপমাত্রা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

গত এক যুগে আটটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে মে মাসে। এই মাসেই বয়ে গেছে আইলা, আম্ফান, ইয়াসের মতো প্রলয়ঙ্করী ঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বেশ ক-বছর ধরে এই সময়ে, বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। একই সময়ে স্থলভাগের তাপমাত্রাও থাকছে বেশি। তাই বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়।

এরই মধ্যে আবার ঘূর্ণিঝড় অশনির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; তবে এর গতিপথ বোঝা যাবে রোববার। তার আগে এর প্রভাবে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি।

মে মাস এলেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব চলে দেশে। গেলো বছরের ২১ মে সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চলের আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। জলোচ্ছ্বাস হয় প্রায় ৮ ফুট উঁচু। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় লোকালয়, মাছের ঘেরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এর আগের বছর ১৬ মে সুন্দরবন উপকূলে প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।

২০০৯ সালের মে মাসের ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলের অনেক বাসিন্দা।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গেলো এক যুগে (২০০৮-২০২১) ১০টি ঘূর্ণিঝড়ের ৮টিই হয়েছে মে মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, এই মাসে হঠাৎ করে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।

এবারো মে মাসেই বঙ্গোপসাগরে দেখা দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই সময়ে দক্ষিণ আন্দামানে যেসব লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, সেসবের গতিপথ থাকে সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিকে; যা আঘাত হানতে পারে সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চলে। তবে রোববারে বোঝা যাবে এর গতিপথ ।

লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নাম হবে অশনি। আবহাওয়া অফিস বলছে, এর প্রভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তার আগে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।