শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে মরক্কো ২৪ বছর পর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় বেলজিয়ামের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার বেসামাল হয়ে গেছে : রিজভী বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম নির্ধারণ করতে পারবে সরকার আমাদের ও আওয়ামী লীগের মাঝখানে আসবেন না: সালাম ইসলামি ব্যাংক থেকে মালিকপক্ষের ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পোশাক রপ্তানিতে আবারো দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনে ৩৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের কথা না ভেবে সরকার বিদেশে অর্থ পাচার করছে: ড. কামাল ডিসেম্বরকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস ঘোষণার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যা জানালেন বিএনপি নেতারা ডিএমপির ছয় কর্মকর্তা বদলি শুরু হলো সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযান করোনা টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচি শুরু

বাজারে নেই তেল ও চিনি, ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল মানুষ

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : নভেম্বর ১৮, ২০২২
বাজারে নেই তেল ও চিনি, ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল মানুষ

রাজধানীর বাজারে মিলছে না সয়াবিন তেল ও চিনি। দোকান থেকে শূণ্য হাতে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, ১৯০ টাকা লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও বাজারে আসেনি। একই সঙ্গে চিনির যে দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার, সে দামে মিল থেকেও মিলছে না চিনি।

তেল, আটা, চিনি ও ডাল বিক্রেতা নাদিম বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। যার প্রভাবে পড়েছে বাজারে। গত সপ্তাহেই বলেছিলাম চিনির দাম বাড়তে পারে। ঠিক তেমনটাই হয়েছে। আটার দাম অনেক বেড়েছে। ২ কেজির আটার প্যাকেটে বেড়েছে ১৫-২০ টাকা।

পোশাক ব্যবসায়ী মাহাতাব উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনই বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চলা যাচ্ছে না। এমনটা চলতে থাকলে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো অসংখ্য মধ্যম আয়ের মানুষ বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষরা যে কীভাবে খেয়ে পরে বেঁচে আছেন- তারাই ভালো জানেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর পাইকারি কৃষিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে নেই চিনি ও সয়াবিন তেল। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে সরকার বেঁধে দেয়া দরেই। সয়াবিন তেল ও চিনি যাও বিক্রি হচ্ছে তার কোনো রশিদ দিচ্ছেন না বিক্রেতারা।

সপ্তাহের বাজারে দাম বেড়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ১০৮ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা কেজিতে।

বাজারে বেড়েছে ভোজ্যতেলর দাম। আগে এক লিটার তেলের বোতল ছিল ১৭৮ টাকা হলেও, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। ৮৮০ টাকা পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯২৫ টাকায়।

আজ এক কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। প্যাকেট আটার দাম ৭০-৭৫ টাকা। এছাড়া দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হতো ১২০-১২৫ টাকায়।

দাম বেড়েছে দেশি মসুরের ডালের। প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০-১২০ টাকা। এছাড়া, ১২০-১২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ইন্ডিয়ান মসুরের ডাল।

এদিকে বাজারে কমেছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। আগের দাম ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে হাঁসের ডিম। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০-২২৫ টাকা।

মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের ডিম বিক্রেতা আশিক বলেন, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কমেছে। বাজারে এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৮ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের হালি ৪০ টাকা। আগের দামে বিক্রি হচ্ছে হাঁসের ডিম।

দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা, আলু মান ভেদে ১৮ থেকে ২১ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে চীনা আদা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা আর চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে শীতকাল আসলেও বাজারে কমেনি সবজির দাম। প্রতিকেজি সবজিতে দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা।

আকারভেদে পাতাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। প্রতিকেজি শসার দাম ৭০-৮০ টাকা। এছাড়া, লম্বা বেগুন ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৮০-৯০ টাকা, টমেটো ১২০-১৩০ টাকা, শিম ৮০-৯০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৭০-৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের বাজারে প্রতি পিস চাল কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৫০-৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা ও লেবুর হালি ১৫-২০ টাকা।

বাজারে কথা হয় সবজি বিক্রেতা আলামিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সাধারণত শীতকালে সবজির দাম কম থাকে। তবে এখনও দাম বেশি। কারণ আমদানি ও সরবরাহ কম। আশা করছি, দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই সবজির দাম কমে যাবে।

বাজারে প্রতিকেজি আলুর দাম ৩০-৪০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। এছাড়া, রসুন ১৩০-১৪০ টাকা ও আদা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের কেজি ৬৮০-৭০০ টাকা। ৮৫০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি খাসির মাংস।

বাজারে কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। এছাড়া, সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮০-২৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ