বিএনপির সমাবেশের দিন ছাত্রলীগের কর্মসূচি, রংপুরকে অচলের হুমকি
- আপডেট সময় : ০২:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০২২ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
পূর্ব কর্মসূচি হিসেবে আগামী শনিবার রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। এই নিয়ে দলটি ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে। জমায়েত করতে চায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে বিএনপির সমাবেশের দু’দিন আগে হঠাৎ করেই সমাবেশের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দুই দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির সমাবেশকে বাধাগ্রস্থ করতেই দুদিন আগ থেকে মাঠ দখল নিতে চায় ছাত্রলীগ। কারণ বিভাগের আট জেলা সফর শেষ করে বৃহস্পতিবার থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে অবস্থান নেবেন। এছাড়া খুলনায় শত বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশের একদিন আগেই শহর দখল করেছে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশে বাধা দেওয়া হলে পুরো রংপুরকে অচল করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি নৈরাজ্য করলে তা প্রতিরোধ করা হবে। দু’পক্ষের এই অনড় অবস্থান ও হুমকি-পাল্টা হুমকিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
শনিবারের সমাবেশের জন্য রংপুর জিলা স্কুল মাঠ চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি। একই মাঠে বৃহস্পতিবার বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছে ছাত্রলীগ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রংপুরের প্রশাসন কোনো পক্ষকেই এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।
গত রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সমাবেশের তথ্য জানানো হয়। যদিও এ সমাবেশটি এক সপ্তাহ আগে গত শনিবার রংপুরের পীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। ছাত্রলীগের ঘোষিত ছাত্র সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতিতে নিজেদের শক্তির জানান দিতে পরিকল্পনা নিয়েছেন দায়িত্বশীল নেতারা।
জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নেতাকর্মীদের হত্যা, হামলা ও মামলার প্রতিবাদে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এরইমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দীক বলেন, আমরা এ বিষয়ে আবেদন পেয়েছি। তবে এখনও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবো।
বিএনপি নেতারা বলছেন, মাঠ চেয়ে অনুমতি পাওয়া না গেলেও পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ হবে। এ বিষয়ে তাঁরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে তাঁরা রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করার চিন্তা করছেন। সমাবেশ ঘিরে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার সমাবেশের মতো রংপুরের সমাবেশে সরকারি দল ও প্রশাসন কী প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে যত বাধাই আসুক, রংপুরের সমাবেশকে অন্যান্য তিনটি সমাবেশের চেয়ে বড় করার দৃঢ় অবস্থান ও পরিকল্পনা রয়েছে দায়িত্বশীল নেতাদের।
তাঁরা মনে করছেন, সমাবেশে বাধা এলে কর্মীদের মধ্যে মরিয়া মনোভাব আরও বাড়ে। এ কারণে তাঁরা যে কোনো উপায়ে সমাবেশ সফল করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। রংপুরের সমাবেশেও বাধা দেওয়া হলে তার ব্যতিক্রম হবে না। সরকার যে উপায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, সেরকমভাবে তাঁরাও কৌশল নির্ধারণ করবেন বলে নেতারা জানিয়েছেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ-উন নবী বলেন, ছাত্রলীগের সমাবেশ পিছিয়ে বিএনপির সমাবেশের দু’দিন আগে আনা হয়েছে। তারাও একই স্থানে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু পৃথক দিন হওয়ায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ১০ দিন আগে বিভাগীয় সমাবেশের স্থান রংপুর জিলা স্কুল মাঠের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে তাঁরা আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন জিলা স্কুল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে এর একটু অদূরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করার জন্য মৌখিকভাবে বলেছে। এতে তাঁদের তেমন কোনো আপত্তি নেই। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠটিও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জনস্রোতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে রংপুরের গণসমাবেশে। তাঁরা সবরকমের প্রস্তুতি গ্রহণ শেষ করেছেন।
এদিকে বিভাগীয় ছাত্রলীগের সমাবেশ ঘিরেও চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। এই সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগমের জন্য বিভাগের প্রত্যেক থানা, ওয়ার্ড, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে চলছে সভা-সমাবেশ। ওই দিন নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে আনার জন্য নেওয়া হয়েছে নানাবিধ পরিকল্পনা। এর মধ্যে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশ সম্পর্কে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাব্বির আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগের সব ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে সব সাংগঠনিক ইউনিট কাজ করছে। কেন্দ্রীয় নেতারা এই সমাবেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এতে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। এই সমাবেশ থেকেই তাঁরা বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিহত করার ঘোষণা দেবেন।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে কোনো সমস্যা নেই। যদি তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা প্রতিহত করব।

























