‘বিএনপি নেতাদের মামলায় সরকারের কোনো যোগসূত্র নেই’
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩ ১৭ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতাদের নামে পরিচালিত মামলায় সরকারের কোনো যোগসূত্র নেই। ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এসব মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় বর্তমান সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। দুদীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আইনের নিজস্ব গতিতে তা পরিচালিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। দেশের বিচারবিভাগ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, সংবিধানবিরোধী ও দুরভিসন্ধিমূলক আখ্যা দিয়ে এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
কাদের বলেন, দেশের সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন, জনমত ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি কোনো কিছুর প্রতি জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তাই তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিষেদগার করে। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিএনপি বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা দেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। অথচ বিএনপির দুর্নীতিপরায়ণ শীর্ষ নেতৃত্বের অপরাধ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের রায়ে তাদের শাস্তি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, দুর্নীতির বরপুত্র দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানের দুর্নীতি ও অর্থপাচার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রতিনিধি এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জিয়া পরিবারের পাচারকৃত ৪০ কোটি টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে। এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়াও সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দেশবাসী জানে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হওয়ায় মামলা খারিজ করেছে উচ্চ আদালত।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এদেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি চালু করেছিলেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন খালেদা জিয়া। বিচারবিভাগকে তারা দলীয় আঙ্গিনায় রূপান্তরিত করেছিলেন।
তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানকে বারবার কলঙ্কিত করেছে বিএনপি। বিএনপি আজ তাদের শীর্ষ নেতাদের অপরাধ থেকে বাঁচানোর জন্য সংবিধান ও বিচার-অঙ্গন সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় আইনের বিবেচ্য বিষয় নয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ সরকার বিচারবিভাগের স্বাধীনতাকে সুসংহত করেছে। দেশের বিচারবিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির পরিবর্তে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।























