বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইয়ে ব্রাজিল সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী অন্য দেশের লেন্স দিয়ে বাংলাদেশকে দেখি না: মার্কিন কর্মকর্তা একদিন না যেতেই ফের কমল স্বর্ণের দাম দেশকে পরিকল্পিতভাবে মরুকরণ করা হচ্ছে : মির্জা আব্বাস মন্ত্রী-এমপির আত্মীয়দের কাছে জিম্মি স্থানীয় জনগণ: রিজভী এক ব্যক্তির এক কথায় দল পরিচালিত হবে না: রওশন এরশাদ বিএনপি যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া: কাদের রোববার খুলছে স্কুল-কলেজ, মাউশির প্রজ্ঞাপন জারি বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজ ডুবি, ১১ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ১ তীব্র তাপপ্রবাহে থাইল্যান্ডে ৩০ মৃত্যু, সতর্কতা জারি উপজেলা নির্বাচনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হবে: সিইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে মিয়ানমার সেনাসহ ২৮৮ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি যুদ্ধ কখনও কোনো সমাধান দিতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী শপথ নিলেন নবনিযুক্ত আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি

বিদ্যুতের বাড়তি দাম, কার ক্ষতি কার লাভ?

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : মার্চ ১, ২০২৩
বিদ্যুতের বাড়তি দাম, কার ক্ষতি কার লাভ?

সরবার প্রতিইউনিট বিদ্যুতের দাম ভোক্তা পর্যায়ে আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ টাকা ২৫ পয়সা করেছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বাড়তি এ দাম আজ বুধবার (১ মার্চ) থেকে কার্যকর হবে। চলতি বছর এ নিয়ে তিনবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির এই সময়ে আরও হতাশা বাড়লো ভোক্তাদের। এতে করে আবাসিক গ্রাহক, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আরো চাপের মধ্যে পড়লো, যখন সবাই কৃচ্ছ্রসাধনের চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা সীমিত, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘটনায় তাদের জন্য বিল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ফলে অত্যাবশ্যক পণ্য বা সেবা কেনা তাদের পক্ষে আরও কঠিন হয়ে যাবে। অর্থকড়ির টানাটানি থাকায়, অনেক ক্ষেত্রেই এসব পরিবারকে খরচের অগ্রাধিকার খাত ঠিক করতে হয়। তাই বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হলে- খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদার পেছনে তাদের ব্যয় কমাতে হবে।

কৃষকের জন্যও ‘খাঁড়ার ঘা’ হতে চলেছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, অচিরেই যার পরিণাম দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, এটা হচ্ছে বোরো ধান রোপণের মওসুম, এই সময়ে উৎপাদিত ফসল- দেশের ৫৪ শতাংশ চালের চাহিদা পূরণ করে। বোরো আবাদ সম্পূর্ণরূপে সেচ-নির্ভর। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘটনায় ফসলের উৎপাদন খরচও বাড়বে।

তিনি বলেন, আগে ডিজেলেরও দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব দাম বৃদ্ধির ঘটনায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। তারা কম সেচ দিতে বাধ্য হবে। আর সেচ কমানোর অর্থই হলো ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে।

জাহাঙ্গীর আলম খান পরামর্শ দেন, এই পর্যায়ে সরকার কৃষকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি দিতে পারে, এতে তারা প্রত্যাশিত পরিমাণে ধান উৎপাদন করতে পারবে।

বিদ্যুতের আরেক দফা দাম বাড়ানোর আঘাত সামলানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দেশের অর্থনীতির জন্য অতি-গুরুত্বপূর্ণ তৈরি পোশাক খাতও।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- ফেডারেশন অব দ্য বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-র সভাপতি জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, গত এক বছরে সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে বার বার বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এতে আমরা উৎপাদনের সক্ষমতা কমছে এবং আমরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও হারাচ্ছি।

এফবিসিসিআই- এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বোঝাটা ভোক্তার ওপরই পড়বে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামালের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রভাব ইতোমধ্যেই শিল্প খাতের মুনাফা সীমায় প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, শেষমেষ এই দাম বৃদ্ধির বোঝা ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।

গত দুই মাসে এনিয়ে তৃতীয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো; এতে যেসব বাসাবাড়িতে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় তাদের মাসিক বিল বাড়বে ১৮২ টাকা। যেসব আবাসিক গ্রাহক ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটা হবে ২৮৫ টাকা।

তবে একটি প্রক্ষেপণ অনুসারে, এই দাম বাড়ানোয় বছরে ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হবে সরকারের।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ টাকা ৩৫ পয়সা। পাশাপাশি শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর (প্রথম ধাপ) ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা।

এছাড়া ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের (দ্বিতীয় ধাপ) ক্ষেত্রে ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের (তৃতীয় ধাপ) ৬ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের (চতুর্থ ধাপ) জন্য ৬ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের (পঞ্চম ধাপ) জন্য ১০ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের (ষষ্ঠ ধাপ) ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিল ১২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আগে মাসে ডিমান্ড চার্জ ৩৫ টাকা ছিল, যা বর্তমানেও একই রাখা হয়েছে।

এদিকে, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ টাকা ৮২ পয়সা। এ ক্ষেত্রেও মাসে ডিমান্ড চার্জ আগের মতোই ৩৫ টাকা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে এখন ফ্ল্যাট রেট ৯ টাকা ৮৮ পয়সা, অফ পিকে ৮ টাকা ৮৮ পয়সা এবং পিকে ১১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগে এই দর যথাক্রমে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা, ৮ টাকা ৬ পয়সা এবং ১০ টাকা ৭৫ পয়সা ছিল। আর ডিমান্ড চার্জ ৪০ টাকাই রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২ টাকা ৬০ পয়সার বদলে হয়েছে ১৩ টাকা ৮৯ পয়সা। পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান ছাড়াও হাসপাতালের ক্ষেত্রে ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৩২ পয়সা থেকে হয়েছে ৬ টাকা ৯৭ পয়সা। আর রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ খরচ ৮ টাকার বদলে ৮ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক ও অফিস শ্রেণিতে প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৮২ পয়সার বদলে ১১ টাকা ৯৩ পয়সা, অফ পিকে ৯ টাকা ৭৩ পয়সার বদলে ১০ টাকা ৭৩ পয়সা ও পিক সময়ে ১২ টাকা ৯৮ পয়সার বদলে ১৪ টাকা ৩১ পয়সা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাসিক ডিমান্ড চার্জ আগের মতোই ৭৫ টাকা রাখা হয়েছে।


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ