ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক লুটপাট করছে সরকার: গয়েশ্বর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক লুটপাট করছে সরকার। আদানি গ্রুপের সাথে গোপন চুক্তি করে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য চলমান সংগ্রামের বিরোধিতা করবে তারা গণদুশমন। আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে ৭১ এর মতো শান্তি কমিটি গঠন করেছে বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এসময় তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশজুড়ে বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে। একেক করে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘এখন আমাদের মুখ্য দাবি হওয়া দরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে এই সরকারকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি। এই সরকারকে সরাতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য।’

ঢাকা বিভাগের বিএনপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এবং বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভার প্রসঙ্গ টেনে দলটির এই নেতা বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, জনগণ থাকবে নিরাপদে ঘরে, ভোট দেবে প্রশাসন, সন্ধ্যায় ফল গণনা করবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন না, ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেছেন, কারা ভোট দিয়েছে? প্রশাসন। প্রশাসন বলতে বুঝায় ডিসি-এসপি পুলিশ ইত্যাদি। কে কত ভোট দিতে পারে। কারণ ভয়, না হয় চাকরি যায়। দেশটা আমার একার নয়, আপনারও নয়। যারা পুলিশে চাকরি করেন, পুলিশে আজীবন চাকরি করবেন না।’

চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশের কথা চিন্তা করেন, ১৯৭১ সালের মতো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের রুখে দাঁড়ান। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি; সেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা এখন যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন, নাকি বিরোধিতা করবেন? অংশগ্রহণ করলে ভালো, না করলে ১৯৭১ সালের মতো রাজকারের খাতায় নাম লেখাবেন।’

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও আরেকটি শান্তি কমিটি করছে। যেদিন আমরা কর্মসূচি করি, সেদিন এই শান্তি কমিটিও কর্মসূচি দেয়। এই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ওবায়দুল কাদের। আমার মনে হয় ওবায়দুল কাদের তাঁর পারিবারিক সূত্রের অভিজ্ঞতা থেকে তা পেয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করবেন। কোনো কমিটি এই সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশপ্রেমিক নয় মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে সবাইকে বুঝতে হবে, এই সরকার জাতীয়তাবাদী নয়, দেশপ্রেমিক নয় এবং গণতান্ত্রিক নয়। যার কারণে জনগণের কথা তোয়াক্কা করে না।’

পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রাশেদুল হক, আমিরুল ইসলাম কাগজী, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ সময় বক্তারা খালেদা জিয়া, এডভকেট রুহুল কবির রিজভীসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক লুটপাট করছে সরকার: গয়েশ্বর

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক লুটপাট করছে সরকার। আদানি গ্রুপের সাথে গোপন চুক্তি করে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য চলমান সংগ্রামের বিরোধিতা করবে তারা গণদুশমন। আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে ৭১ এর মতো শান্তি কমিটি গঠন করেছে বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এসময় তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশজুড়ে বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে। একেক করে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘এখন আমাদের মুখ্য দাবি হওয়া দরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে এই সরকারকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি। এই সরকারকে সরাতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য।’

ঢাকা বিভাগের বিএনপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এবং বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভার প্রসঙ্গ টেনে দলটির এই নেতা বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, জনগণ থাকবে নিরাপদে ঘরে, ভোট দেবে প্রশাসন, সন্ধ্যায় ফল গণনা করবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন না, ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেছেন, কারা ভোট দিয়েছে? প্রশাসন। প্রশাসন বলতে বুঝায় ডিসি-এসপি পুলিশ ইত্যাদি। কে কত ভোট দিতে পারে। কারণ ভয়, না হয় চাকরি যায়। দেশটা আমার একার নয়, আপনারও নয়। যারা পুলিশে চাকরি করেন, পুলিশে আজীবন চাকরি করবেন না।’

চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশের কথা চিন্তা করেন, ১৯৭১ সালের মতো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের রুখে দাঁড়ান। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি; সেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা এখন যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন, নাকি বিরোধিতা করবেন? অংশগ্রহণ করলে ভালো, না করলে ১৯৭১ সালের মতো রাজকারের খাতায় নাম লেখাবেন।’

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও আরেকটি শান্তি কমিটি করছে। যেদিন আমরা কর্মসূচি করি, সেদিন এই শান্তি কমিটিও কর্মসূচি দেয়। এই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ওবায়দুল কাদের। আমার মনে হয় ওবায়দুল কাদের তাঁর পারিবারিক সূত্রের অভিজ্ঞতা থেকে তা পেয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করবেন। কোনো কমিটি এই সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশপ্রেমিক নয় মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে সবাইকে বুঝতে হবে, এই সরকার জাতীয়তাবাদী নয়, দেশপ্রেমিক নয় এবং গণতান্ত্রিক নয়। যার কারণে জনগণের কথা তোয়াক্কা করে না।’

পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রাশেদুল হক, আমিরুল ইসলাম কাগজী, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ সময় বক্তারা খালেদা জিয়া, এডভকেট রুহুল কবির রিজভীসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করে।