মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের সব জায়গায় কাল থেকে সতর্ক পাহারায় থাকবে আ. লীগ: সেতুমন্ত্রী রাজধানীর নতুন যে জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি হলো না ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না : প্রধানমন্ত্রী রাস্তায় পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত বিধ্বস্ত পাওয়ার গ্রিড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নেবে রাশিয়া, লাগবে না ভাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা- প্রধানমন্ত্রী নতুন বছরের ‘শুরুতেই’ দ্বিতীয় মেয়াদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বাইডেন গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন ৪ জানুয়ারি ব্রাজিলের জয় নিয়ে যা বললেন বুবলী অসুস্থ পেলেকে জয় উৎসর্গ করলেন নেইমাররা ফেরি চলাচল ব্যাহত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে

বোরো উৎপাদনে কেজিতে সর্বোচ্চ ৬৫০ লিটার পানির প্রয়োজন: ব্রির গবেষণা

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : জানুয়ারি ১৬, ২০২২

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: বোরো ধান চাষে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের নামে না। অনেকের ধারণা, এক কেজি বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ লিটার সেচের পানি লাগে। কিন্তু বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর (ব্রি) গবেষণায় দেখা যায়, দেশের নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ১০০০ থেকে ১৬০০ লিটার সেচের পানি দিয়ে কৃষকরা সফলভাবে ১ কেজি ধান উৎপাদন করছেন।

শুধুমাত্র সেচ বিবেচনায় এই পানির প্রয়োজন আরো কম। যারমধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ (৪০০-৬৫০ লিটার) সীপেজ ও পারকুলেশনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশে যায়। এতে দেখা যায়, বোরো ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির প্রয়োজন হয় মাত্র ৫৫০-৬৫০ লিটার/কেজি ব্রি’র প্রতিবেদনে বলা হয়।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন প্রকাশে রবিবার অনুষ্ঠিত এক ওয়েবিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান ড. মোঃ মনিরুজ্জামান এবং কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন, অস্ট্রেলিয়ার প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট ড. মোঃ মাঈন উদ্দিন।

ব্রি মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন বলেন, বোরো ধানে পানির অপচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি সমাজে প্রচলিত ছিল ব্রি ও সহযোগি সংস্থাসমূহের এই গবেষণা ফলাফলের মাধ্যমে সে বিভ্রান্তির অবসান হবে।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ এই সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের উচিত এই ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনে একযোগে গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কৃষি সচিব সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোঃ বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এএফএম হায়াতুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম এবং বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশীদ।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞ প্যানেলে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ইমিরেটাস ড. এমএ সাত্তার মন্ডল এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান।

ড. সাত্তার মন্ডল বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার জন্য বোরো ধানের আবাদই একমাত্র দায়ী নয়। শুষ্ক মওসূমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় বেজ ফ্লো হিসাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির একটি অংশ নদীতে চলে যাচ্ছে।ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বন্যার পানি প্রথমে ভূ-গর্ভস্থ পানির সেই খালি জায়গা পূরণ করার ফলে বন্যার তীব্রতা হ্রাস পাচ্ছে।

হামিদুর রহমান বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগসহ ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নদী-নালা, খাল-বিলে পানির সংরক্ষণের পরিমাণ ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাফল্যজনকভাবে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ সম্ভব হবে।

কর্মশালার প্রবন্ধে বলা হয়, কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোন কোন জায়গায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমে যাচ্ছে। এ সমস্যাকে সামনে রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির পরিমাণ ও স্বল্প খরচে ধান উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি ও অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরওসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাঁচ বছর ধরে কয়েকটি গবেষণা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এসব গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বিগত ১০ বছরে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বোরোর এলাকা বাড়ে নাই, তবে উন্নত জাতসহ অন্যান্য কারণে বোরোর ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।তাছাড়াও বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার ও ক্রপিং প্যাটার্ন বেসড ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে জমির উৎপাদনশীল ও ফসলের পানি ব্যবহার দক্ষতা আরো বাড়ানো সম্ভব।

শাহজাহান কবীর বলেন, সারা দেশে বোরো ধান চাষে সেচের পানির ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে নেতিবাচক প্রচারণা ঠিক নয়। শুধুমাত্র ঠাটা বরেন্দ্র অঞ্চলে কিছু এলাকায় এটি হতে পারে। ভূ-গর্ভস্থ একুয়াফায়ারগুলো পানির রিজার্ভার হিসেবে কাজ করে। সুতরাং এসব  নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

জুমে আরও যুক্ত আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিতঅতিরিক্ত সচিববৃন্দ, অধীন সংস্থা ও দপ্তর সমূহের প্রধানগণঅন্যান্য জাতীয় ও অন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রধানগণ; বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন বিজ্ঞানীবৃন্দ; প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ ব্রি ও সহযোগি প্রতিষ্ঠানসমূহের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ