শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মীরা ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম ধর্মঘটে রাজধানীর গোলাপবাগে সমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু ১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব- টিআইবি রংপুর-ঢাকা বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার স্যুটকেসে কাপড়-ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত: আ স ম আবদুর রব জ্বালানি বিনিয়োগে বেইজিং-রিয়াদ সমঝোতা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আরো হামলার অঙ্গীকার পুতিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল-আব্বাস ডিবির হেফাজতে বিশ্বমন্দার ধাক্কা বাংলাদেশে লাগবে না- প্রধানমন্ত্রী আমার বিয়ে আর হবে না: নুসরাত ফারিয়া ফের আলোচনায় তনুশ্রীর বোন ঈশিতা ফখরুল-আব্বাসকে আটক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ: মোশাররফ বন্দি বিনিময় করলো রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : ডিসেম্বর ২২, ২০২১

বৃত্তান্ত ডেস্ক: ম্যাচের বিরতিতে যাওয়ার খানিক আগে পুরো স্টেডিয়ামে জ্বলে উঠল মুঠোফোনের আলো। মনে হচ্ছিল যেন হাজারো জোনাকি জ্বলছে মাঠে। দৃশ্যটাকে প্রতীকীই ধরা যায়। বয়সভিত্তিক ফুটবলেও যে আরও একবার আলো ছড়ালেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ সন্ধ্যায় কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। একমাত্র গোলটি করেছেন আনাই মগিনি।

২০১৮ সালে ভুটানে হওয়া সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টই এবার মেয়েদের বয়স এক বছর বাড়িয়ে আয়োজন করেছে সাফ। এবারও টুর্নামেন্টের ট্রফিটা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

১৯ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচটিতে দলের সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেন কোচ গোলাম রব্বানী। ওই ম্যাচে খেলা সোহাগী কিস্কু, স্বপ্না রানী, আনুচিং মগিনি ও আফঈদা খন্দকারের জায়গায় আজ একাদশে ঢোকেন মনিকা চাকমা, তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা ও নীলুফার ইয়াসমিন।

অভিজ্ঞ আঁখি খাতুন, নীলুফার ইয়াসমিন, শামসুন্নাহার সিনিয়র আর আনাই মগিনির সামনে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণদেয়াল ভাঙার সাহস হয়নি ভারতীয় ফরোয়ার্ডদের। প্রথমার্ধে বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে ঘুরল বল। মাঝমাঠে তো মারিয়া মান্দার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ! দুই প্রান্ত দিয়ে কখনো ঋতুপর্ণা, কখনো শাহেদা আক্তার আক্রমণে উঠেছেন। তহুরা খাতুন আর মনিকাও বক্সে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন।

এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা অভিজ্ঞতা। তারুণ্যনির্ভর ভারতীয় মেয়েদের কাছ থেকে বারবার বল কেড়ে নিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মিলছিল না বাংলাদেশের। বক্সে ঢুকলেও ফিনিশিংটা ঠিকঠাকমতো হচ্ছিল না।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া বল বাড়িয়ে দেন তহুরার উদ্দেশে। বলটি প্রথম চেষ্টায় ধরে ফেলেন ভারতীয় গোলরক্ষক আনশিকা। কিন্তু মুহূর্তেই বলটি তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে ডান পায়ে শট নেন তহুরা। কিন্তু দুর্বল শট হওয়ায় গোললাইনের ওপরে ঘুরতে থাকে বল। অবশ্য গোলের দাবিতে বাংলাদেশের মেয়েরা ঘিরে ধরেন নেপালি রেফারি অঞ্জনা রায়কে। কিন্তু তিনি মেয়েদের কথায় কোনো কানই দেননি।

এরপর ২৫ মিনিটে আনাই মগিনির শট ভারতের পোস্টে লেগে ফেরে। অথচ বক্সে তখন বাংলাদেশের কোনো ফুটবলারই ছিলেন না। এরপর ৪৬ মিনিটেও শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে।

পুরো ম্যাচে ৬৩ মিনিটে ভারতের একটাই ভালো আক্রমণ ছিল। লিনডা কম সেরতোর হেড অবশ্য সহজেই ধরে ফেলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে শাহেদা আক্তারের দারুণ একটা ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে আনাই নিলেন দুর্দান্ত এক শট। রংধনু শটটি বাঁক নিয়ে ভারতীয় খেলোয়াড় আনশিকার হাতে লেগে ঢোকে জালে। বাকি সময় অবশ্য চেষ্টা করেও আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।

জাতীয় দলের সঙ্গে মুখোমুখিতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরা কখনোই জেতেনি। কিন্তু বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভিন্ন চেহারার বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে যে নয়বার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ভারতের মুখোমুখি হয়েছে, এর পাঁচবারই জিতেছে বাংলাদেশ। ৩টি ম্যাচ ড্র। একবার হার বাংলাদেশের। এবারের টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বেও বাংলাদেশ হারিয়েছে ভারতকে। এরপর হারাল ফাইনালে।

২০১৭ সালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উৎসব করে বাংলাদেশ। এবারও ফাইনাল দেখতে গ্যালারি উপচে পড়ে দর্শক। বেশির ভাগ দর্শকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। কণ্ঠে ছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চিৎকার। শীতের সন্ধ্যাটা শেষ পর্যন্ত রঙিন করেই বাড়ি ফিরেছেন দর্শকেরা।

বাংলাদেশ দল: রুপনা চাকমা, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), শামসুন্নাহার সিনিয়র, আনাই মগিনি, আঁখি খাতুন, মনিকা চাকমা, তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, নীলুফার ইয়াসমিন, শাহেদা আক্তার, শামসুন্নাহার জুনিয়র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ