বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের উভয়েরই লক্ষ্য সিরিজে এগিয়ে যাওয়া মিয়ানমার থেকে ফিরলেন ১৭৩ বাংলাদেশি আপিল বিভাগে ৩ বিচারপতি নিয়োগ মন্ত্রী-এমপির স্বজনরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ব্যবস্থা: কাদের ফিলিপাইনে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তর কোরীয় প্রতিনিধি দলের ইরান সফর খালেদা জিয়ার গ্যাটকো মামলায় চার্জশুনানি ২৫ জুন অফশোর ব্যাংকিংয়ে সুদের ওপর কর প্রত্যাহার রানা প্লাজায় নিহতদের স্মরণ দেশের হজ ব্যবস্থাপনা বিশ্বের মধ্যে স্মার্ট হবে: ধর্মমন্ত্রী থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তাপদাহের মধ্যে গ্রামে ১০৪৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলো জ্যামাইকা সুইজারল্যান্ডে জব্দ রয়েছে রাশিয়ার ১ হাজার ৪শ’ কোটি ডলার জিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে নিহত ৩৩

মালদ্বীপ সংসদের ভাষণে উন্নয়ন যাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, তিন চুক্তি সই

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১

বৃত্তান্ত ডেস্ক: মালদ্বীপের জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকালে মালদ্বীপের সরকারি ও বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক সুবিধার জন্য আগামী ৫০ বছরে উন্নয়ন যাত্রায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার আশা, ‘আমাদের উষ্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে। দুই দেশের আগামী ৫০ বছরের যাত্রা আরও ফলপ্রসূ হবে এবং জনগণের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনবে।’

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘বিশ্বের কোনও দেশ বিচ্ছিন্নভাবে উন্নতি করতে পারে না। কোভিড-১৯ মহামারি সবাইকে শিখিয়েছে যে, পরস্পর নির্ভরশীল এবং একটি উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্বের স্বার্থে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে হবে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতার নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি, যেমনটি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে গেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মালদ্বীপের উন্নয়নের যাত্রা, এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে দেশটির সফল উত্তরণ প্রত্যক্ষ করে আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়েছি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ পরিপূরকতাগুলোকে কাজে লাগাবে। এলডিসি হিসেবে আমরা যেসব সুবিধা উপভোগ করতাম তা প্রত্যাহারের পরে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো তা মোকাবিলার জন্য আমাদের ফোকাস হবে অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান।’

২০২১ সাল বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী বছর উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে একটি প্রযুক্তি-চালিত সমাজ এবং উদ্ভাবন-নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়ন যাত্রার ধারাবাহিকতায় এখন লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩১ সালের মধ্যে এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ বানানো এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ এবং স্থিতিস্থাপক ডেল্টায় পরিণত করা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এবং বিশ্বের ৩৪টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশ গত একদশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের কয়েক বছরে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি ছিল, মহামারীর ঠিক আগে আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ। গত একদশকে আর্থসামাজিক সূচকে বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ এবং শিশুর স্বাস্থ্য, আয়ুষ্কাল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, স্যানিটেশন, পানীয় জল, প্রাথমিক শিক্ষা এবং সাক্ষরতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত করেছে।’

গত মার্চে মুজিব জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

মালদ্বীপের জাতীয় সংসদ ‘পিপলস মজলিস’-এ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ এবং ডেপুটি স্পিকার। মালদ্বীপের জাতীয় সংসদের স্পিকার তাঁর বক্তৃতায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশের নেতৃত্বদানে শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ইস্যুগুলোতে সম্মত করাতে শেখ হাসিনাকে পাঁচ চুক্তি প্রণেতার অন্যতম হিসেবে বিবিসির প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে সংসদের দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন এবং মালদ্বীপের সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

এরপর সংসদের চেম্বার হাউসে শেখ হাসিনাকে একটি নৌকার চিত্রকর্ম উপহার দেন স্পিকার।

এরআগে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দ্বৈত কর পরিহার, বন্দি বিনিময় এবং যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনটি চুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ’র মধ্যে দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা শেষে উভয় নেতার উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে এই চুক্তি সই হয়।

দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিসহ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান (নবায়ন) সমঝোতা স্মারক এবং উভয় দেশের যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক সই হয়।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে মালদ্বীপকে ১৩টি সামরিক যান উপহার দেয় বাংলাদেশ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মালেতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে পৌঁছালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সোলিহ তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এ সময় শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান ও গান স্যালুট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের ‘লাইন অব প্রেজেন্টেশন’ ও পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি বিশেষ ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো ছয় দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে মালদ্বীপের রাজধানী মালে পৌঁছেন।


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ