ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে কারণে পণ্ড হয়ে গেল জেমসের কনসার্ট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের সমাপনী রাতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নগরবাউল জেমসের কনসার্ট চলাকালীন বহিরাগতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিলা স্কুল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি মূলত নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে জেমসের গান শোনার জন্য কয়েক হাজার অনিবন্ধিত মানুষ স্কুলের সামনে ভিড় করেন। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামলাতে বাইরে দুটি বড় প্রজেক্টর বসানো হলেও তাতে বহিরাগতরা সন্তুষ্ট হননি।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। বাধা পেয়ে তারা স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট নিক্ষেপ শুরু করে।

ইটপাটকেলের আঘাতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

৪-৫ জন বহিরাগত দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ ছিলেন উপস্থাপিকা শ্রাবণ্য তৌহিদা; সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরলেন ঘটনার বর্ণনা, সঙ্গে প্রকাশ করেন কষ্ট-আক্ষেপ।

শ্রাবণ্য তৌহিদা জানান, অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে চলছিল। নগর বাউল জেমস ঠিক তখনই মঞ্চে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শ্রাবণ্য যখন মঞ্চে র‍্যাফেল ড্র পরিচালনা করছিলেন, হঠাৎ আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো পাথর ও ইট পড়তে শুরু করে।

ফেসবুক পোস্টে এই উপস্থাপক উল্লেখ করেন, হঠাৎ একটি বড় পাথর ঠিক আমার সামনে এসে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে সব বদলে গেল। এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে আসা মানুষের চোখেমুখে তখন শুধু আতঙ্ক।

তৌহিদা আরও উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আয়োজকরা। ইটের আঘাতে অনুষ্ঠানস্থলেই প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ অনেকে রক্তাক্ত হন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অনিশ্চয়তার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি পণ্ড ঘোষণা করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

নিরাপত্তা উপপরিষদের সদস্য বেনজীর আহমেদ তাবরীজ জানান, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১০টার ঠিক আগে অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেমস আসার খবরে ২০-২৫ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল, যা স্কুলের ধারণক্ষমতার বাইরে ছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশনা বাতিল করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

যে কারণে পণ্ড হয়ে গেল জেমসের কনসার্ট

আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের সমাপনী রাতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নগরবাউল জেমসের কনসার্ট চলাকালীন বহিরাগতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিলা স্কুল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি মূলত নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে জেমসের গান শোনার জন্য কয়েক হাজার অনিবন্ধিত মানুষ স্কুলের সামনে ভিড় করেন। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামলাতে বাইরে দুটি বড় প্রজেক্টর বসানো হলেও তাতে বহিরাগতরা সন্তুষ্ট হননি।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। বাধা পেয়ে তারা স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট নিক্ষেপ শুরু করে।

ইটপাটকেলের আঘাতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

৪-৫ জন বহিরাগত দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ ছিলেন উপস্থাপিকা শ্রাবণ্য তৌহিদা; সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরলেন ঘটনার বর্ণনা, সঙ্গে প্রকাশ করেন কষ্ট-আক্ষেপ।

শ্রাবণ্য তৌহিদা জানান, অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে চলছিল। নগর বাউল জেমস ঠিক তখনই মঞ্চে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শ্রাবণ্য যখন মঞ্চে র‍্যাফেল ড্র পরিচালনা করছিলেন, হঠাৎ আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো পাথর ও ইট পড়তে শুরু করে।

ফেসবুক পোস্টে এই উপস্থাপক উল্লেখ করেন, হঠাৎ একটি বড় পাথর ঠিক আমার সামনে এসে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে সব বদলে গেল। এক বুক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে আসা মানুষের চোখেমুখে তখন শুধু আতঙ্ক।

তৌহিদা আরও উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আয়োজকরা। ইটের আঘাতে অনুষ্ঠানস্থলেই প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ অনেকে রক্তাক্ত হন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অনিশ্চয়তার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি পণ্ড ঘোষণা করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।

নিরাপত্তা উপপরিষদের সদস্য বেনজীর আহমেদ তাবরীজ জানান, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১০টার ঠিক আগে অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেমস আসার খবরে ২০-২৫ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল, যা স্কুলের ধারণক্ষমতার বাইরে ছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশনা বাতিল করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।