ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোজার শেষে বাজারে ক্রেতা কম, বাড়তি মুরগির দাম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রমজানের শেষের দিকে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কমছে। শুক্রবারের রাজধানীর বাজারগুলোতে কম ভিড় দেখা গেছে।

ঈদের আগে দাম বেড়েছে সব ধরনের মুরগির। সোনালি ও লেয়ার মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা আর বয়লার বেড়েছে ৩০ টাকা। তবে দাম বাড়েনি গরু ও খাসির মাংসের৷ আর কাঁচা সবজির দাম ওঠানামা করছে৷ রোজার শেষের দিকে মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম।

ঈদকে সামনে রেখে গরম আবহাওয়া বাড়ছে আর কিছুটা গরম হয়েছে মুরগির বাজার। সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে। সোনালি মুরগীর দাম এক লাফে ছুঁয়েছে ৩৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৩০০ টাকার নিচে৷ বয়লার ২০০ টাকা ছাড়িয়ে দাম হাঁকাচ্ছে ২৪০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। আর লেয়ার মুরগীর দামও ৩০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে মুরগীর চাহিদা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে দাম বাড়ছে। আরও বাড়তে পারে। মুরগীর দাম হঠাৎ কেনো ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেলো, যা অস্বাভাবিক বলছেন ক্রেতারা।

তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বলেও তিনি জানান। বাজারে গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০ টাকায়।

বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে, কাঁচা বাজার পরিস্থিতি তেমন পরিবর্তন নেই। কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু বেড়েছে আর কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে বাজারে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা এবং সালগম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা এবং খিরাই শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। নতুন আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

রায়েরবাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা শরীফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি ২২০ টাকা কেজি। ব্রয়লার আর আমাদের কাতারে নেই; এটা এখন ধনীদের হয়ে গেছে। আর কিছু টাকা যোগ করলেই তো আধা কেজি গরুর মাংস নিতে পারি।’

একই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘সামনে ঈদ, রোজাও শেষ পর্যায়ে। মাছের দাম প্রায় আগের মতোই আছে। মাছে বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মাছের বাজারে ভিড় করছেন। অনেককে আবার মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোজার শেষে বাজারে ক্রেতা কম, বাড়তি মুরগির দাম

আপডেট সময় : ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষের দিকে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কমছে। শুক্রবারের রাজধানীর বাজারগুলোতে কম ভিড় দেখা গেছে।

ঈদের আগে দাম বেড়েছে সব ধরনের মুরগির। সোনালি ও লেয়ার মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা আর বয়লার বেড়েছে ৩০ টাকা। তবে দাম বাড়েনি গরু ও খাসির মাংসের৷ আর কাঁচা সবজির দাম ওঠানামা করছে৷ রোজার শেষের দিকে মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম।

ঈদকে সামনে রেখে গরম আবহাওয়া বাড়ছে আর কিছুটা গরম হয়েছে মুরগির বাজার। সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে। সোনালি মুরগীর দাম এক লাফে ছুঁয়েছে ৩৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৩০০ টাকার নিচে৷ বয়লার ২০০ টাকা ছাড়িয়ে দাম হাঁকাচ্ছে ২৪০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। আর লেয়ার মুরগীর দামও ৩০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে মুরগীর চাহিদা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে দাম বাড়ছে। আরও বাড়তে পারে। মুরগীর দাম হঠাৎ কেনো ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেলো, যা অস্বাভাবিক বলছেন ক্রেতারা।

তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বলেও তিনি জানান। বাজারে গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১২০০ টাকায়।

বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে, কাঁচা বাজার পরিস্থিতি তেমন পরিবর্তন নেই। কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু বেড়েছে আর কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে বাজারে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা এবং সালগম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা এবং খিরাই শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। নতুন আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

রায়েরবাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা শরীফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি ২২০ টাকা কেজি। ব্রয়লার আর আমাদের কাতারে নেই; এটা এখন ধনীদের হয়ে গেছে। আর কিছু টাকা যোগ করলেই তো আধা কেজি গরুর মাংস নিতে পারি।’

একই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘সামনে ঈদ, রোজাও শেষ পর্যায়ে। মাছের দাম প্রায় আগের মতোই আছে। মাছে বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মাছের বাজারে ভিড় করছেন। অনেককে আবার মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।