শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেয়া নিষিদ্ধ: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মন্ত্রী বা অতিথিদের সংবর্ধনা দেয়া এবং ফুলের মালা বা তোড়া প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নতুন আইন বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষার আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আসার পথে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেয়ার দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে আর কখনো মন্ত্রীর জন্য রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না। আমাকে সাধারণ মানুষের মতো চলতে দিন। ফুলের মালা বা তোড়া দেয়ার সংস্কৃতি এখন থেকে বন্ধ করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুত শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ক্লাসে পাঠানোর নির্দেশও দেন। শিক্ষাক্ষেত্রে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাদের বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার চিন্তা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যাচাই করবেন, এরপর জেলা প্রশাসক (ডিসি) যাচাই করবেন। পরে তিনটি নাম সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। বোর্ড যাচাই-বাছাই করে দেখবে ব্যক্তি শিক্ষিত, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী কিনা।
মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রয়েছে। যেমন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ডিগ্রি পাস না হলেও তারা শিক্ষিত ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ধরনের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন, কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর জন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ করেন। এছাড়া উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটি ও রোগী কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক এবং হুইলচেয়ার বিতরণ করেন।
পরে তিনি কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্যোগে শাহ নেয়ামত শাহ স্কুলে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন এবং বিকেলে কচুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে কচুয়া বড় মসজিদের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।

























জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী