শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাঙালির সব অর্জন আ. লীগের হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী সত্য তথ্য দিয়ে ভুল তথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই : তথ্যপ্রতিমন্ত্রী বিএনপি ধপাস করে পড়ে গেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলছেনা ভারত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট থেকেও সরে দাঁড়ালেন সাকিব দেশে অনেক ছোট দল আছে, বিএনপি তেমন একটি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফের জামিন মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই দখলদার সরকার ঐতিহ্যগতভাবেই জনগণকে শত্রুপক্ষ ভাবে: রিজভী আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হাফেজ ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে আ. লীগ: প্রধানমন্ত্রী যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জি কে শামীমের জামিন দারুণ জয়ে মৌসুম শুরু ইন্টার মায়ামির

সব খাতে শ্রমিকদের বেতন- ভাতা বাড়ানো হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : এপ্রিল ৩০, ২০২২
আওয়ামী লীগ না থাকলে দেশের কল্যাণ হয় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আগামীকাল রোববার (১ মে) মহান মে দিবস। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (৩০ এপ্রিল) দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে তা করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় স্থায়ীভাবে অক্ষম অথবা মারা গেলে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় এবং শ্রমিকদের সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তাদানে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি। সেই সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সব খাতে শ্রমিকদের বেতন- ভাতা বাড়ানো হয়েছে।’

মহান মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক দিনে আমি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা জানাই। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে রক্তাক্ত আন্দোলনে শ্রমিকের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আত্মাহুতি দেয়া বীর শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক একতা, উন্নয়নের নিশ্চয়তা’ অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৭২ সালে শ্রমনীতি প্রণয়ন করেন। এছাড়া পরিত্যক্ত কল-কারখানা জাতীয়করণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।

সরকার প্রধান বলেন, “শ্রম কল্যাণ নিশ্চিতকরণে ‘জাতীয় শ্রমনীতি, ২০১২’ এবং ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা, ২০১৩’ এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি, ২০১১’ প্রণয়ন করেছি। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন সেবার সম্প্রসারণ ও জোরদারকরণে আমরা শ্রম পরিদপ্তরকে সম্প্রতি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। এতে এক কোটির বেশি লোকের কর্মসংস্থান হবে। দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারী যত্রতত্র শিল্প স্থাপন না করে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী শ্রমিকদের জন্য শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দুটি বহুতল শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং দুঃস্থ শ্রমিকদের মাসিক ৩ হাজার টাকা করে ৩ মাস আর্থিক সুবিধাদানে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। আমরা শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ