সলোমন আইল্যান্ডকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে চীনা সেনাদের স্থায়ীভাবে প্রবেশের ব্যাপারে সলোমন আইল্যান্ডকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
সফরররত মার্কিন প্রতিনিধি ও দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা কার্ট ক্যাম্পবেল সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানান। চীনের সঙ্গে চুক্তির শর্তগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত না জানালেও এর মাধ্যমে দেশটিতে সশস্ত্র সেনাদের উপস্থিতির সুযোগ তৈরী হবে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। তবে অঞ্চলটিতে চীনা সেনাদের স্থায়ী উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরী করবে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। চীনের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারটি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় মরিসন সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন বিরোধীরা।
চীনের আয়তন প্রায় ৯৬০ কোটি বর্গকিলোমিটার৷ ২০২১ সালের পরিসংখ্যান বলছে চীনে জনসংখ্যা প্রায় ১৪২ কোটি৷ এদিকে সলোমনের আয়তন প্রায় ২৮ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য বলছে, সলোমনের জনসংখ্যা ছয় লাখ ৮৬ হাজার, যা চীনের তুলনায় খুবই কম৷
দ্বীপরাষ্ট্রটি ২০১৯ সালে তাইওয়ানকে বাদ দিয়ে বেইজিংয়ের প্রতি তার কূটনৈতিক সমর্থনের নীতি পরিবর্তন করে৷ এরপরই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে৷
সলোমন দ্বীপপুঞ্জ কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, সে দেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি পাবে না চীন৷ চীনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তির পরিকল্পনা চলাকালেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই বার্তা দেয়া হয়েছে৷ দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত খসড়া চুক্তি নিয়ে কথা এগিয়েছে৷ তবে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মানাসে সোগাভারে জানিয়েছেন, তিনি সামরিক ঘাঁটি বানানোর জন্য চীনকে আমন্ত্রণ জানাননি৷
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি ফাঁস হয়েছে৷ ফাঁস হওয়া সেই নথিতে ইঙ্গিত ছিল, চীন যুদ্ধজাহাজসহ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের দেশটিতে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে৷ আশঙ্কা রয়েছে চুক্তি সই হলে চীনের নৌবাহিনীর জাহাজ এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে৷ তবে ওই খসড়া চুক্তিতে এখনও মন্ত্রীরা সই করেননি৷
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার বিস্তার নিয়ে প্রশাসন যথেষ্ট সচেতন৷ এ বিষয়ে নজরদারি বজায় রাখবে৷ তবে সোগাভারে চীনের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানাননি৷
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি নিরাপত্তা চুক্তির ‘স্টার্টিং পয়েন্ট’৷ সাধারণ মানুষের এবং সম্পদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই চুক্তি৷ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানের বক্তব্য, ‘‘সংবাদমাধ্যমের মন্তব্য, জল্পনা ভিত্তিহীন৷”
ছোট এই দেশে চীনের আধিপত্য নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বাকি দেশগুলিতেও৷ ২০২১ সালের নভেম্বরে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনে চার জন প্রাণ হারান সলোমনে৷ রাজধানী হোনিয়ারার বড় একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়৷
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই বলেই মন্তব্য করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন৷ একই বক্তব্য, ফেডারেটেড স্টেটস অফ মাইক্রোনেশিয়ারও৷ নিরাপত্তার খাতিরে চীনের সঙ্গে এই চুক্তি থেকে সরে আসতে সলোমন প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছে তারা৷ এর ফলে অ্যামেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে মাইক্রোনেশিয়া৷
২০১৭ সালের একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির অধীনে সলোমনের রাজধানী হোনিয়ারাতে শান্তি বজায় রেখেছে অস্ট্রেলিয়া৷ চীন-সলোমন চুক্তি প্রসঙ্গে স্বভাবতই উদ্বিগ্ন অস্ট্রেলিয়া৷ সেখানকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিটার ডাটন জানান, সোগাভারের দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি শ্রদ্ধা করেন৷ পাশাপাশি সলোমনকে নিরাপত্তা সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷
স্কাই নিউজকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে ডাটন বলেন, ‘‘দক্ষিণ চীন সাগরে ২০টি সামরিক উপস্থিতি তৈরি করেছে চীন৷ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলি নিয়ে চীন একই পথে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ক্যানবেরা৷ পাপুয়া নিউগিনিতে চীন সামরিক বন্দর গড়তে চায়৷ শ্রীলঙ্কাতে ইতিমধ্যে একটি বন্দর রয়েছে চীনের৷ নিশ্চিতভাবে অন্য কোথাও বন্দর তৈরির জায়গা দেখছে চীন৷”
২০১৮ সালে পাপুয়া নিউগিনির একটি নৌ ঘাঁটি পুনর্নিমাণ করতে চেয়েছিল চীন৷ তবে চীনের বদলে উত্তরের নিকটতম প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়াকে সে দায়িত্ব দেয় পাপুয়া নিউগিনি৷ এবার যদি চীন সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে, সে ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াকেও সামরিক গতিবিধি, সেনা মোতায়েন বাড়াতে হবে৷ কারণ সলোমন দ্বীপপুঞ্জ অস্ট্রেলিয়া থেকে খুব বেশি দূরে নয়৷ চীন ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের এই চুক্তি প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, এমনই মত অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিসে পাইনেরও৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবারের বাইরে অন্য কারও নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না৷”
চীনের প্রভাব কমাতে ইতিমধ্যে ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশটিতে নতুন করে দূতাবাস খোলার কথা জানিয়েছে অ্যামেরিকা৷ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সলোমনে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন প্রশাসনও৷
























