বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রেকে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নি‌ল ওমান তিস্তা মহাপরিকল্পনার বর্তমান পরিস্থিতি জানালেন প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি-রাজনীতি ধ্বংস করেছে সরকার : মির্জা ফখরুল বেনজিরের আরও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ কুয়েতে শ্রমিক আবাসন ভবনে আগুন, নিহত ৪১ এমপি আনার হত্যার তদন্ত সঠিক পথেই এগুচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসকে বিচারের নামে হয়রানি করা হচ্ছে: ব্যারিস্টার খোকন বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. ইউনূসের বক্তব্য অসত্য: আইনমন্ত্রী আদালতে খাঁচার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা অপমানজনক: ড. ইউনূস মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশে নামানো অবাস্তব: সিপিডি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বিমান বাহিনীর প্রধানের শ্রদ্ধা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় তৃতীয় বাংলাদেশ

হরিয়ানায় সহিংসতার নেপথ্যে কে এই মনু মানেসার

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : আগস্ট ৪, ২০২৩
হরিয়ানায় সহিংসতার নেপথ্যে কে এই মনু মানেসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে উত্তাল ভারতের হরিয়ানার নুহ জেলা। সোমবার (৩১ জুলাই) বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা একটি মিছিল বের করেছিলেন সেখানে। ওই মিছিলে হামলা করা হয়। একের পর এক গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে পাশের জেলা গুরগাঁওয়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন মসজিদের ইমামও রয়েছেন।

হরিয়ানার এ সহিংসতার পেছনে একজনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, তিনি ২৮ বছর বয়সী মোহিত যাদব। তবে ওই ব্যক্তিকে সবাই চেনে মনু মানেসার নামেই।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই মুসলিম ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর আলোচনায় আসেন এই মনু মানেসার। ওই হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে রাজস্থানে। সে মামলায় তাঁকে খুঁজতে পুলিশ আসেন হরিয়ানায়। মনুকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তাঁরা।

কিন্তু মনু দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন হরিয়ানায়। এমনকি তিনি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করছেন বিভিন্ন ভিডিও। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমে দিচ্ছেন সাক্ষাৎকার। সেখানে একবার বলছেন, তিনি হত্যায় জড়িত নন। আবার বলছেন, গরুরক্ষায় তিনি সবকিছু করতে পারেন। গরু জবাই ও পাচার রুখতে কাজ করছেন বলে দাবি করেন মনু।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এক দশকের বেশি সময় আগে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত বজরং দলের সদস্য হন মনু মানেসার। গত পাঁচ বছরে গুরগাঁওয়ে হরিয়ানা সরকার কর্তৃক চালানো গরু সুরক্ষা টাস্কফোর্সের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইউটিউব চ্যানেলে গরু বাঁচানো, গরু হত্যা, গরুর হত্যাকারী বা গরু পাচারকারী সম্বন্ধীয় বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন মনু। এ সময় ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা যেত। প্রধানত হিন্দু ধর্মীয় মানুষদের জাগিয়ে তোলাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। এমনকি ভারতের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার সঙ্গে সেলফিও রয়েছে মনুর। এ তালিকায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপি নেতা অমিত শাহ।

এর মধ্যেই হরিয়ানায় সোমবার শুরু হয় সহিংসতা। ঘটনার সূত্রপাত গুরুগাঁও সংলগ্ন নুহ এলাকায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্রিজ মণ্ডল জলাভিষেক যাত্রাকে কেন্দ্র করে। মনু মানেসার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উসকানিমূলক পোস্ট করেন, যা ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। মিছিলে তাঁর থাকার কথা শুনে এবং কয়েক জন সহযোগীর উপস্থিতি দেখে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

গুরুগ্রাম-আলোয়াড় জাতীয় সড়কে মিছিল আটকানোর অভিযোগ ওঠে। সেই থেকেই অশান্তি শুরু। গাড়ি-বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, দোকানপাট জ্বালানো এবং নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

হরিয়ানার মুসলিম নেতারা বলছেন, মানেসারের ভিডিওর কারণেই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সোমবারের জলাভিষেক শোভাযাত্রায় অংশ নিতে হিন্দুদের আহ্বান জানাচ্ছেন মনু। এমনকি তিনি সেখানে থাকবেন বলেও জানান।

ভিডিওটি সাদামাটা হলেও এতেই চটে যায় মনুর বিরোধীরা। এ কারণে সেই শোভাযাত্রায় হামলাও করা হয়। কিন্তু মনু সেই শোভাযাত্রায় ছিলেন না। হরিয়ানার প্রশাসন বলছে, তাদের এলাকায় মনু অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। তবে রাজস্থান প্রশাসন চাইলে তারা সহযোগিতা করবে। সোমবারের ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ