ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যা: মাস পেরোলেও শ্যুটারসহ মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার শ্যুটার ফয়সাল করিমসহ মাস্টারমাইন্ডরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, খুনিরা এখনও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে তাদের। হাদির সতীর্থরা জানান, মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া উদ্বেগের। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাকি আসামিদের ধরতে তৎপরতা চলছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জমিন থেকে উঠে এসে, মুক্ত-উদারচিন্তার বিপ্লবী চরিত্র হয়ে ওঠেন শরীফ ওসমান হাদি। তবে, ঘাতকের গুলিতে হঠাৎই থেমে যায় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আর ন্যায় ইনসাফের পক্ষে তার লড়াই। বিদায় বেলায় জনস্রোতই বলে দেয়, কীভাবে একজন হাদি ঠাঁই পেয়েছিলেন জনমানুষের মনে। লাখো মানুষের ঢল আর চোখের জলে এমন বিদায় কয়জনেরই বা হয়!

গেলো বছরের ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পরই মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় সেই ওসমান হাদিকে; যিনি বারবার বলেছেন তাকে মেরে ফেলা হলেও, যেন অপরাধীদের বিচারটুকু হয়। তার সেই হত্যার বিচারের অগ্রগতি কতদূর?

ঘটনার একদিন পরই, শরিফ ওসমান হাদির শ্যুটার ফয়সালকে চিহ্নিত করে পুলিশ। পরিচয় জানা যায় তার একাধিক সহযোগী আলমগীরের, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পীর। ফয়সালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুলিশ উদ্ধার করে, রিমান্ডে নেয়া হয় তার বাবা, মা, স্ত্রী, আর বান্ধবীকে, কিন্তু সবার চোখে ধুলো দিয়ে পাশের দেশে পাড়ি জমান ঘটনার পেছনে থাকা মূল আসামিরা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বজন ও সহযোদ্ধারা। বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিক না হলে বিচার না হলে ভূলুণ্ঠিত হবে জুলাইয়ে চেতনা।

হাদির সতীর্থরা জানান, সরকার শুধু এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পেরেছে হাদির আশেপাশের মানুষকে। রাষ্ট্র হত্যার বিচার করতে পারছে না। আর বিচারের নামে তারা যে সময় ব্যয় করছে এটি তাদের জন্য দুঃখজনক। ভারতীয় আধিপত্যবাদ কমলেও তাদের কালো ছায়া এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, হাদি হত্যার মাস পেরিয়ে, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, মূল আসামিদের অবস্থান ও গ্রেপ্তার নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও, চলতি মাসের ৬ তারিখ চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। বলছে, নেয়া হচ্ছে ইন্টারপোলের সহযোগিতা।

র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘কোনো আসামি যদি দেশের বাহিরে পালিয়ে যায় তাকেও আনার প্রক্রিয়া আছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিভিন্ন প্যাক্ট আছে। ইন্টারপোল আছে অনেক প্রক্রিয়া আছে। এ সমস্ত উপায় অবলম্বন করা যাবে যদি আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারি।’

মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি মনে করছেন, মামলার বিচারে অনেকগুলো ধাপ থাকলেও, তা দ্রুত শেষ করতে আরও আন্তরিক-উদ্যমী হওয়া দরকার।

মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, ‘এ ৩০ দিন হবার আগেই আমরা বড় একটি রেজাল্ট দেখতে পাবো এটি আমরা আশা করব এটিও ঠিক না। তবে ৩০ দিন হবার আগে কিছু অন্তত স্টেপ দেখানো দরকার ছিলো। সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’

শরীফ ওসমান হাদির পরিবার ও সহযোদ্ধাও বলছেন, ন্যায়ের পক্ষে আমৃত্যু লড়াই করা হাদিকে হত্যার বিচারও ইনসাফেরই প্রশ্ন। তাতে কার্পণ্য হলে, পথ হারাবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাদি হত্যা: মাস পেরোলেও শ্যুটারসহ মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেট সময় : ০৩:৫০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার শ্যুটার ফয়সাল করিমসহ মাস্টারমাইন্ডরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, খুনিরা এখনও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে তাদের। হাদির সতীর্থরা জানান, মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া উদ্বেগের। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাকি আসামিদের ধরতে তৎপরতা চলছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জমিন থেকে উঠে এসে, মুক্ত-উদারচিন্তার বিপ্লবী চরিত্র হয়ে ওঠেন শরীফ ওসমান হাদি। তবে, ঘাতকের গুলিতে হঠাৎই থেমে যায় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আর ন্যায় ইনসাফের পক্ষে তার লড়াই। বিদায় বেলায় জনস্রোতই বলে দেয়, কীভাবে একজন হাদি ঠাঁই পেয়েছিলেন জনমানুষের মনে। লাখো মানুষের ঢল আর চোখের জলে এমন বিদায় কয়জনেরই বা হয়!

গেলো বছরের ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পরই মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় সেই ওসমান হাদিকে; যিনি বারবার বলেছেন তাকে মেরে ফেলা হলেও, যেন অপরাধীদের বিচারটুকু হয়। তার সেই হত্যার বিচারের অগ্রগতি কতদূর?

ঘটনার একদিন পরই, শরিফ ওসমান হাদির শ্যুটার ফয়সালকে চিহ্নিত করে পুলিশ। পরিচয় জানা যায় তার একাধিক সহযোগী আলমগীরের, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পীর। ফয়সালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুলিশ উদ্ধার করে, রিমান্ডে নেয়া হয় তার বাবা, মা, স্ত্রী, আর বান্ধবীকে, কিন্তু সবার চোখে ধুলো দিয়ে পাশের দেশে পাড়ি জমান ঘটনার পেছনে থাকা মূল আসামিরা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বজন ও সহযোদ্ধারা। বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিক না হলে বিচার না হলে ভূলুণ্ঠিত হবে জুলাইয়ে চেতনা।

হাদির সতীর্থরা জানান, সরকার শুধু এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পেরেছে হাদির আশেপাশের মানুষকে। রাষ্ট্র হত্যার বিচার করতে পারছে না। আর বিচারের নামে তারা যে সময় ব্যয় করছে এটি তাদের জন্য দুঃখজনক। ভারতীয় আধিপত্যবাদ কমলেও তাদের কালো ছায়া এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, হাদি হত্যার মাস পেরিয়ে, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, মূল আসামিদের অবস্থান ও গ্রেপ্তার নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও, চলতি মাসের ৬ তারিখ চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। বলছে, নেয়া হচ্ছে ইন্টারপোলের সহযোগিতা।

র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘কোনো আসামি যদি দেশের বাহিরে পালিয়ে যায় তাকেও আনার প্রক্রিয়া আছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিভিন্ন প্যাক্ট আছে। ইন্টারপোল আছে অনেক প্রক্রিয়া আছে। এ সমস্ত উপায় অবলম্বন করা যাবে যদি আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারি।’

মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি মনে করছেন, মামলার বিচারে অনেকগুলো ধাপ থাকলেও, তা দ্রুত শেষ করতে আরও আন্তরিক-উদ্যমী হওয়া দরকার।

মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, ‘এ ৩০ দিন হবার আগেই আমরা বড় একটি রেজাল্ট দেখতে পাবো এটি আমরা আশা করব এটিও ঠিক না। তবে ৩০ দিন হবার আগে কিছু অন্তত স্টেপ দেখানো দরকার ছিলো। সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’

শরীফ ওসমান হাদির পরিবার ও সহযোদ্ধাও বলছেন, ন্যায়ের পক্ষে আমৃত্যু লড়াই করা হাদিকে হত্যার বিচারও ইনসাফেরই প্রশ্ন। তাতে কার্পণ্য হলে, পথ হারাবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।