মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে মন্দিরগামীদের নিয়ে নৌকাডুবি, ২৪ জনের লাশ উদ্ধার, অনেকেই নিখোঁজ ডিএনসিসি মেয়র, ওয়াসা এমডিকে কারাগারে পাঠাতে চান নদী কমিশন চেয়ারম্যান নতুন মূল্য নির্ধারণ: পাম অয়েলে কমলো ১২ টাকা, চিনিতে ৬ টাকা বেনজীরের বিদায়, পুলিশের নতুন আইজি মামুন, র‌্যাবের ডিজি খুরশীদ ডলারে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ থেকে মুক্ত ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি কর্তারা শত অনিয়মের আখড়া ছিল ই-ভ্যালি, ছিলনা আয়-ব্যয়ের হিসাব ১৬ কোটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনার ল্যাব থাকলেও টেস্ট ছাড়াই হালাল সনদ দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও সোনার বাংলা ক্যাপিটাল’র আমানত-দায় শেয়ারে রূপান্তর, চুক্তি সকল শক্তি দিয়েও নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা: টুকু হংকংকে হারিয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করল ভারত প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা ষড়যন্ত্রে সরকারি দলের লোকজন জড়িত হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া বিএনপি-জামাতের সম্পর্ক ভেতরে অটুট: কাদের দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

১৬ কোটি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনার

বৃত্তান্ত ক্রীড়া প্রতিবেদক
আপডেট : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে দেশে ফিরে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘সবাইকে সালাম। প্রথমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতি, যারা আমাদের আজ এভাবে সংবর্ধনা দিয়েছে। আপনারা দেখেছেন চার-পাঁচ বছর ধরে বাফুফে ভবনে আমরা ক্যাম্পে আছি। সভাপতি স্যার বলেছিলেন কষ্ট করে যাও সফল হবা।

বাফুফে আমাদের যে সাপোর্ট দিয়েছে, আমরা তার ফল দিতে পেরেছি। আপনারা দোয়া করবেন আগামীতে আমরা দেশকে আরও ভালো ভালো ট্রফি উপহার দেব।’

কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘পরিবর্তন শুরু হয়েছিল ২০১২ সাল থেকে। এখানে বিশেষ টার্নিং পয়েন্ট ছিল, আগে বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে মেয়েরা আসতো ফুটবল খেলতে। তখন আমার সিদ্ধান্ত নিলাম, এভাবে ফুটবল হবে না। তাই আমরা প্ল্যান করে একটা প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতিভা অন্বেষণ করলাম। ২০১৬ সালে ক্যাম্প শুরু হয়। তারপর থেকে প্রথম আমাদের পথচলা। ফেডারেশেনের সভাপতি থেকে শুরু করে সবার সমর্থন, মেয়েদের পরিশ্রম সব কিছু মিলিয়ে আমরা সফল হয়েছি।’

এরআগে প্রায় সাড় তিনঘন্টা সময় নিয়ে ছাঁদখোলা দ্বিতল বাসে গোটা ঢাকা শহর ঘুরে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাফুফে ভবনে প্রবেশ করে সৌরভ ছড়ানো সাফজয়ী নারী ফুটবল দল। এ সময় এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারনা ঘটে গোটা নগরজুড়ে।

সবশেষ রাজপথে কবে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে, স্মৃতি হাতড়ে বের করা কঠিন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বাফুফে ভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অনেক স্থানে হাজারও উৎসুক মানুষের ভিড়। কারও হাতে লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে, কেউবা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। সবাই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন প্রিয় খেলোয়াড়দের এক পলক দেখতে। প্রচণ্ড গরমেও উৎসাহে কমতি ছিল না। আর এই ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন সাবিনারা একটু অন্যভাবে। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি নিয়ে ছাদখোলা বাসে করে সাবিনা-সানজিদারা শহর প্রদক্ষিণ করে ফুটবলপ্রেমীদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। এই দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিরল!

সাবিনা-স্বপ্নারা আগেও বয়সভিত্তিক ফুটবলের ট্রফি জিতেছেন। দেশে কিংবা দেশের বাইরে। কিন্তু কখনোই এমন অভূতপূর্ব দৃশ্যের মুখোমুখি হননি। আগে গ্যালারি কিংবা মাঠ থেকে বের হয়ে আসার সময় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবার বাধভাঙ্গা উল্লাস। বল্গাহীন আনন্দ। আগের সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। অনন্য অর্জনে উৎসবে মেতেছে সবাই।

আগে কখনও সাবিনারা পাননি হাজারও মানুষের এমন উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসা। বেলা বাড়তেই বিমানবন্দরে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। আর সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের জনাকীর্ণ উপস্থিতি তো ছিলই। তখনও ছাদখোলা বাসটি আসেনি। বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দেশের মাটি স্পর্শ করার পরই বিমানের ভেতরেই কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে মুহূর্তটি।

ভিআইপি লাউঞ্জে তখন ঘোষক বারবার সাফজয়ী চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন বার্তা দিচ্ছিলেন। মিষ্টিমুখ করে ভিড়ের কারণে সাবিনারা লাউঞ্জে কোনোমতে আসতে পারলেও পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হতে পারেনি। সেখান থেকে ভিড় এড়িয়ে তাদের অন্য পাশে নেওয়া হয়। এর বেশ কিছু সময় পর লাউঞ্জের বাইরে মিনিট কয়েকের জন্য নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়ে গেছেন সাবিনা-ছোটনরা।

বাইরে তখন খোলা ছাদের বাসটি অপেক্ষায় ছিল তাদের বরণ করে নিতে। আর সামনেই বাদ্য-বাজনা বাজছিল। বাসে ওঠার আগে ফুলের বৃষ্টিতে ভিজেছেন সবাই। নিরাপত্তা কর্মীদের বেষ্টনি ঘিরে সাবিনাদের বাস ততক্ষণে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।

বিমানবন্দরের বাইরে তখন ভিড় ঢেলে এগিয়ে যাওয়ার পালা। খোলা বাসের একদম সামনে অধিনায়ক সাবিনা। হাতে ট্রফি। তার পাশে সানজিদা আক্তার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাশুরা পারভীনসহ অন্যরা। কোনও সময় ট্রফি ধরে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন সাবিনা, আবার ক্রীড়াপ্রেমীদের অভিবাধনেরও জবাব দিতে গেছে তাকেসহ অন্যদের। সাফজয়ী ছবি সম্বলিত ব্যান্ডিং করা বাসটিতে চড়ে বসেন ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রীসহ বাফুফের কর্মকর্তারাও। রাস্তার দুপাশে তখন মানুষজনের ভিড় ছিল দেখার মতো।

বিমানবন্দর থেকে বিজয়ীদের বাস কাকলী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, বিজয় সরণী ফ্লাইওভার, তেজগাঁও পেরিয়ে মগবাজার-মৌচাক-কাকরাইল-ফকিরাপুল-মতিঝিল হয়ে পৌঁছায় বাফুফে ভবনে। ততক্ষণে সূর্যের আলো নিভে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। কয়েক ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিতে দুধারে প্রচুর মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছে ফুটবল দল।

শেষটাও কম জমকালো হয়নি। বাফুফে ভবনে তখনও অনেক মানুষ। অধীর অপেক্ষা। সেখানে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ছাড়াও অন্যরা তাদের রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিয়েছেন। নিজের ঢেরাতে ফেরার অন্যরকম আনন্দ। এই দীর্ঘ যাত্রায় সাবিনাদের ক্লান্ত মনে হলেও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সবকিছুই যে বৃষ্টির পরশের মতো উবে গেছে। সবার হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসায় সিক্ত সাবিনা-সানজিদারা।

বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন- সোনার মেয়েদের স্বর্ণালি আনন্দভ্রমণ!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ