ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আক্রান্ত হলে কোথায় পাল্টা হামলা হবে জানাল ইরান

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে কোথায় পাল্টা হামলা চালানো হবে সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, আক্রমণের স্বীকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের কাছে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে। এই প্রস্তাব বরাবরই নাকচ করেছে তেহরান।

ইরাভানির চিঠিতে গত বুধবারের ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।

চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।’

যুক্তরাষ্ট্র যেন অবিলম্বে শক্তি ব্যবহারের বেআইনি হুমকি বন্ধ করে তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান ইরাভানি। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ইরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত।’

তবে একই সঙ্গে ইরাভানি সতর্ক করে চিঠিতে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’

এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপরেই আবারও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সামনে আনেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে তা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

সূত্র: গালফ নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

আক্রান্ত হলে কোথায় পাল্টা হামলা হবে জানাল ইরান

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে কোথায় পাল্টা হামলা চালানো হবে সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, আক্রমণের স্বীকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের কাছে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে। এই প্রস্তাব বরাবরই নাকচ করেছে তেহরান।

ইরাভানির চিঠিতে গত বুধবারের ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।

চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।’

যুক্তরাষ্ট্র যেন অবিলম্বে শক্তি ব্যবহারের বেআইনি হুমকি বন্ধ করে তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান ইরাভানি। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ইরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত।’

তবে একই সঙ্গে ইরাভানি সতর্ক করে চিঠিতে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’

এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপরেই আবারও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সামনে আনেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে তা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

সূত্র: গালফ নিউজ