আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১৯ জন নিহত
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
রোববারের এই হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। তবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, নানগারহার এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক বসতি এবং একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার ‘পরিমিত ও যথাযথ’ জবাব দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কাবুল। গত বছরের অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পুনরায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট’ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, বাজৌর এবং বান্নু জেলায় হওয়া প্রাণঘাতী হামলাগুলো আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গি নেতাদের নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে, যার অকাট্য প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং ১৭০ জন আহত হন। পরে আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে। এছাড়া সম্প্রতি বাজৌর ও বান্নুতেও সেনা টহল এবং তল্লাশি চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হন।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে নাশকতা চালাচ্ছে। ২০২০ সালের দোহা চুক্তির শর্ত মেনে আফগান ভূখণ্ডকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান তালেবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
























