আলভারেজের ‘উপবাস’ ভাঙার রাতে ৪ গোল হজম বার্সেলোনার
- আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ গোলখরা যেন তাঁকে গ্রাস করেছিল। টানা ১৩ ম্যাচে জালের দেখা পাননি হুলিয়ান আলভারেজ। সমালোচনা বাড়ছিল। আত্মবিশ্বাসে পড়েছিল আঁচ। তবে বড় মঞ্চেই জবাব দিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তাঁর ফেরার ম্যাচে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ৪-০ ব্যবধানে হারাল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জিতেছে আতলেতিকো। স্বাগতিকদের হয়ে একটি করে গোল করেন অঁতোয়ান গ্রিজমান, আদেমোলা লুকমান ও হুলিয়ান আলভারেজ। চোটের কারণে মার্কাস রাশফোর্ড, রাফিনিয়াসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে এই ম্যাচে পায়নি বার্সেলোনা।
মেত্রোপলিতানোতে বৃহস্পতিবার রাতটা ছিল একতরফা। শুরু থেকেই চেপে ধরে স্বাগতিকরা। তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ানো সিমেওনে। যদিও প্রথম ধাক্কা সামাল দেন গোলরক্ষক। কিন্তু পঞ্চম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার নিরীহ ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে অদ্ভুত ভুল করেন বার্সা গোলরক্ষক। বল পা ফসকে জালে ঢুকে গেলে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো।
১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্রিজমান। ডান দিক থেকে মলিনার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। বার্সেলোনার রক্ষণ তখন দিশেহারা।
২০ মিনিটে লোপেজের ভলি ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় কাতালানদের। উল্টো ২৩ মিনিটে আলভারেজের শট গোললাইন থেকে সরিয়ে দেন জুল কুন্দে। চাপ বাড়ছিল।
৩৩ মিনিটে তৃতীয় গোল। আলভারেজের বাড়ানো বল থেকে নিচু শটে ব্যবধান বাড়ান সদ্য দলে যোগ দেওয়া লুকমান। আতলেতিকোর জার্সিতে তিন ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় গোল—দ্রুতই ছাপ ফেলছেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
৩৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রবার্ট লেভানডফস্কি, কোচ ফ্লিক আক্রমণে ঝাঁজ আনতে চাইলেও কাজ হয়নি। ৪১ মিনিটে আবারও ব্যর্থ লোপেজ; তার শট ঠেকান গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। ।
যোগ করা সময়ে আসে আলভারেজের মুহূর্ত। লুকমানের পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে জালে বল জড়ান তিনি। গোলখরা ভাঙার স্বস্তি, সঙ্গে দলের চতুর্থ গোল—দ্বিগুণ তৃপ্তি।
১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম কোনো অফিসিয়াল ম্যাচে প্রথমার্ধেই চার গোলে পিছিয়ে পড়ল বার্সেলোনা। প্রায় ৭৩ বছর আগে লা লিগায় তাদের বিপক্ষে এমন দাপট দেখিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হয়নি। তবে ক্ষতটা আগেই গভীর হয়ে গিয়েছিল। বড় ব্যবধানে জিতে ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে রাখল কোচ সিমিওনের দল। আর আলভারেজ প্রমাণ করলেন—ফরোয়ার্ডের ‘উপবাস’ যত দীর্ঘই হোক, এক গোলই বদলে দিতে পারে গল্প।


























