ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এই নির্বাচন ‘স্মরণীয়’ হয়ে থাকবে: উপদেষ্টা পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠক আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই নির্বাচনটি দেশের ইতিহাসে একটি ‘স্মরণীয় নির্বাচন’ হয়ে থাকবে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা শুরু থেকেই একটি ঐতিহাসিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ক্যাবিনেটের পর্যবেক্ষণে সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমান সরকার মনে করে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে এটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহা সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ১৭টি কেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলে জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এই জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। শরিকদের ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২টিতে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা ৯টিসহ মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নিরঙ্কুশ জয়ের ফলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই নির্বাচন ‘স্মরণীয়’ হয়ে থাকবে: উপদেষ্টা পরিষদ

আপডেট সময় : ০৮:২০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠক আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই নির্বাচনটি দেশের ইতিহাসে একটি ‘স্মরণীয় নির্বাচন’ হয়ে থাকবে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা শুরু থেকেই একটি ঐতিহাসিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ক্যাবিনেটের পর্যবেক্ষণে সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমান সরকার মনে করে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে এটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহা সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ১৭টি কেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলে জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এই জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। শরিকদের ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২টিতে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা ৯টিসহ মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নিরঙ্কুশ জয়ের ফলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।