ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এপস্টেইন কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন কিয়ার স্টারমার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে জেনেও পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন আরও দাবি করছে, নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েও দলের ভেতরে সমালোচনার ঝড় থামাতে পারছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এপস্টেইন কাণ্ডে নাম আসায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রথী মহারথীদের পদমর্যাদা ঝুঁকিতে পড়লেও বিতর্ক এড়াতে সক্ষম হয়েছেন ট্রাম্প।

শুরুতে বিরোধিতা করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মতিতেই যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইনের নথি, ভিডিও, ছবি এবং ইমেইল কনভারসেশন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নেই কোনো অপরাধের অভিযোগ, হাতে আসেনি উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণও। সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি নথির মধ্যে ছিল না ট্রাম্পের নামও।

এপস্টেইনের কাণ্ডে উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, সাবেক কৌশলী স্টিভ ব্যানন এবং একসময়ের শ্রম মন্ত্রী আলেকজান্ডার অ্যাকোস্টার নাম। এছাড়াও সাবেক আইনপ্রণেতা, মেয়র, গভর্নর মিলিয়ে তালিকাটা বেশ লম্বা। কিন্তু এর জেরে আসলে কতখানি বিচলিত ট্রাম্প?

সংবাদ সম্মেলনে এপস্টেইন কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করায় সিএনএনের সাংবাদিককে সবার সামনে হেনস্থা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এপস্টেইন কাণ্ডে নিজ দলের আইন-প্রণেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একের পর ইস্যু সামনে আনছেন তিনি। নাগরিকদের ব্যতিব্যস্ত রাখতে কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, ওয়াশিংটন মস্কো পরমাণু চুক্তি বা আইসিই এজেন্টদের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও মার্কিন নাগরিক হত্যার মতো ইস্যু।

বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দাবি করছে, এপস্টেইন কাণ্ডের জেরে ওভাল অফিসের চেয়ে কয়েকগুণ বিপজ্জনক অবস্থায় টেন ডাউনিং স্ট্রিট। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকার পরও পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় খোদ লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে স্টারমারেকে নিয়ে ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একাধিক ব্রিটিশ সংবাদপত্রের শিরোনামও বলছে, এর জেরে ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, হারাতে পারেন প্রধানমন্ত্রিত্বও।

পিটার ম্যান্ডেলসনকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করায় এপস্টেইন কাণ্ডে যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন স্টারমার। দাবি করেছেন, ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আছে জানলেও ঐ সম্পর্কের অন্ধকার অংশটি তার অজ্ঞাত ছিল।

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর জানাজানি হওয়ার পর গেল বছরই ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। শুক্রবার প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন ম্যান্ডেলসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের খবর জানার পরেও ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত বানানোয় স্টারমারের পরিণতি হতে পারে বরিস জনসনের মতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এপস্টেইন কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন কিয়ার স্টারমার

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে জেনেও পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন আরও দাবি করছে, নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েও দলের ভেতরে সমালোচনার ঝড় থামাতে পারছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এপস্টেইন কাণ্ডে নাম আসায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রথী মহারথীদের পদমর্যাদা ঝুঁকিতে পড়লেও বিতর্ক এড়াতে সক্ষম হয়েছেন ট্রাম্প।

শুরুতে বিরোধিতা করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মতিতেই যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইনের নথি, ভিডিও, ছবি এবং ইমেইল কনভারসেশন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নেই কোনো অপরাধের অভিযোগ, হাতে আসেনি উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণও। সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি নথির মধ্যে ছিল না ট্রাম্পের নামও।

এপস্টেইনের কাণ্ডে উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, সাবেক কৌশলী স্টিভ ব্যানন এবং একসময়ের শ্রম মন্ত্রী আলেকজান্ডার অ্যাকোস্টার নাম। এছাড়াও সাবেক আইনপ্রণেতা, মেয়র, গভর্নর মিলিয়ে তালিকাটা বেশ লম্বা। কিন্তু এর জেরে আসলে কতখানি বিচলিত ট্রাম্প?

সংবাদ সম্মেলনে এপস্টেইন কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করায় সিএনএনের সাংবাদিককে সবার সামনে হেনস্থা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এপস্টেইন কাণ্ডে নিজ দলের আইন-প্রণেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একের পর ইস্যু সামনে আনছেন তিনি। নাগরিকদের ব্যতিব্যস্ত রাখতে কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, ওয়াশিংটন মস্কো পরমাণু চুক্তি বা আইসিই এজেন্টদের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও মার্কিন নাগরিক হত্যার মতো ইস্যু।

বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দাবি করছে, এপস্টেইন কাণ্ডের জেরে ওভাল অফিসের চেয়ে কয়েকগুণ বিপজ্জনক অবস্থায় টেন ডাউনিং স্ট্রিট। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকার পরও পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় খোদ লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে স্টারমারেকে নিয়ে ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একাধিক ব্রিটিশ সংবাদপত্রের শিরোনামও বলছে, এর জেরে ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, হারাতে পারেন প্রধানমন্ত্রিত্বও।

পিটার ম্যান্ডেলসনকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করায় এপস্টেইন কাণ্ডে যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন স্টারমার। দাবি করেছেন, ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আছে জানলেও ঐ সম্পর্কের অন্ধকার অংশটি তার অজ্ঞাত ছিল।

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর জানাজানি হওয়ার পর গেল বছরই ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। শুক্রবার প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন ম্যান্ডেলসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের খবর জানার পরেও ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত বানানোয় স্টারমারের পরিণতি হতে পারে বরিস জনসনের মতো।