এভারকেয়ারে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ (শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার পর তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে এভারকেয়ারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও এর দুই-একটি অংশবিশেষ এখনও মস্তিষ্কের ভেতরে রয়ে গেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে হাদিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৮টা ৫ মিনিটে সেখানে পৌছায়।
এর আগে গুলিবিদ্ধ হাদিকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রাখার কথা জানিয়ে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার বুকে ও পায়েও আঘাত আছে। সম্ভবত রিকশা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে এসব আঘাত লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হাদির নিউরোর অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে তার সিটিস্ক্যান করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ছোট ছোট দুই-একটি প্রিলেট মানে ছোট পুঁতি থেকেও আরও ছোট ধাতব বলের অস্তিত্ব। অস্ত্রোপচারের সময় সেই রকম একটি প্রিলেট বের করা হয়েছে। আরও দুই-একটি ব্রেনের মধ্যে আছে। এই গুলির কারণে রোগীর ব্রেনের প্রেসার অনেক বেড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধের পাশাপাশি প্রেসার কমিয়ে আনার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান জানান, পরিবারের সম্মতিতেই ওসমান হাদিকে এভারকেয়ারে নেওয়া হয়। পরিবার প্রথম দিকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এভারকেয়ারে নেওয়ার কথা বলে।
এর আগে দুপুরে পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। তার সঙ্গে থাকা মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট এলাকার কাছে রিকশায় যাওয়ার সময় দুইজন মোটরসাইকেলে এসে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে রিকশাতেই হাসপাতালে আনা হয়।
হাদির গুলিবিদ্ধের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনসমূহ। বিক্ষোভ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।




















