ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়াশাচ্ছন্নর কারণে শীতের দাপট থাকবে কয়েক দিন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে জেঁকে বসতে শুরু করেছে পৌষের হাড় হিম করা শীত। ইতোমধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। ফলে কনকনে শীতে সর্বত্রই জবুথুবু অবস্থা। এই অবস্থায় দেশের কোথাও কোথাও থাকতে পারে কুয়াশার দাপট। সেই সঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আগামী কয়েকদিনও অব্যাহত থাকতে পারে।

সূর্যের দেখা না মেলায় হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতের এই দাপট আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (নিকলী, কিশোরগঞ্জ)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তাপমাত্রা: ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিকাংশ জেলায় গড় তাপমাত্রা: ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (টেকনাফ, কক্সবাজার)।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ (সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ঘন কুয়াশার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ২৫ ডিসেম্বর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক দিনে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সাধারণত এই ব্যবধান কমে গেলে শীতের অনুভূতি তীব্র হয়। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে ভূপৃষ্ঠে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না, ফলে ভূমি উষ্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এসব কারণেই হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন, সোম ও মঙ্গলবার (২৯-৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ জানান, সোমবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া এই দু’দিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে এদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নতুন বছরের প্রথম দু’দিন (১-২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। আর এই দু’দিনে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়াশাচ্ছন্নর কারণে শীতের দাপট থাকবে কয়েক দিন

আপডেট সময় : ০১:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে জেঁকে বসতে শুরু করেছে পৌষের হাড় হিম করা শীত। ইতোমধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। ফলে কনকনে শীতে সর্বত্রই জবুথুবু অবস্থা। এই অবস্থায় দেশের কোথাও কোথাও থাকতে পারে কুয়াশার দাপট। সেই সঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আগামী কয়েকদিনও অব্যাহত থাকতে পারে।

সূর্যের দেখা না মেলায় হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতের এই দাপট আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (নিকলী, কিশোরগঞ্জ)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তাপমাত্রা: ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিকাংশ জেলায় গড় তাপমাত্রা: ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (টেকনাফ, কক্সবাজার)।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ (সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ঘন কুয়াশার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ২৫ ডিসেম্বর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক দিনে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সাধারণত এই ব্যবধান কমে গেলে শীতের অনুভূতি তীব্র হয়। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে ভূপৃষ্ঠে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না, ফলে ভূমি উষ্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এসব কারণেই হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন, সোম ও মঙ্গলবার (২৯-৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ জানান, সোমবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া এই দু’দিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে এদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে নতুন বছরের প্রথম দু’দিন (১-২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। আর এই দু’দিনে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।