ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনির মৃত্যুতে স্তব্ধ ইরান; রাজপথে জনস্রোত

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল ইরানবাসী। হাজার হাজার মানুষের হাহাকার আর কান্নায় থমথমে ইমাম আলী রেজার মাজার শরীফ। হামলার শঙ্কা আর মৃত্যু ভয় পেছনে ফেলে রাজধানী তেহরানের রাজপথে অগণিত মানুষের ভিড়। জাতীয় এই শোকের উল্টো দিকে আছে রাজতন্ত্রপন্থী আর খামেনি বিরোধীদের উল্লাস। তবে সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয় ইরান। ইরানকে নেতৃত্ব দিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন তিন সদস্যের অস্থায়ী কাউন্সিল গঠন করেছে দেশটি।

এ যে এক শোকের নগরী। বাতাসে বারুদের গন্ধ, দূর থেকেও শোনা যায় কান্নার শব্দ। মসজিদ, মাজার, মহাসড়ক, অলিগলি- যেখানে চোখ যায় সেখানেই সর্বশান্ত মানুষের হাহাকার। মাতম ইরানজুড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, যেকোনো মুহূর্তে হামলার শঙ্কা, মৃত্যুর পরোয়ানা- কোনো কিছুরই আর তোয়াক্কা করছেন না ইরানবাসী। ছুটে এসেছেন শোক আর ক্ষোভ নিয়ে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এভাবেই তাকে স্মরণ করেছেন অনুসারীরা। বুক চাপড়ে কেঁদে, প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘ যাত্রা কামনা করে স্লোগান দিয়েছেন অনেকে। লাখো মানুষের ঢল নামে ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানের নাকস-ই-জাহান স্কয়ারে। সাধারণ জনগণের আরেকটি বড় অংশ ছুটে যায় মাশহাদে ইমাম আলী রেজার মাজার শরীফে। যেখানে শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সমাহিত করার রীতি আছে।

এই শোকের বিপরীতে উল্লাস করেছে সরকার বিরোধীদের একাংশ। শনিবার রাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলার পরপরই রাজপথে নেমে আসেন রাজতন্ত্র সমর্থকদের একাংশ। এসময় খামেনি বিরোধী স্লোগান দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে তা পূরণে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে অস্থায়ী কাউন্সিল। সরকারি বার্তা সংস্থার তথ্য, অন্তর্বর্তী সময়ে এই কাউন্সিলই নেতৃত্ব দেবে ইরানকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খামেনির মৃত্যুতে স্তব্ধ ইরান; রাজপথে জনস্রোত

আপডেট সময় : ০২:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল ইরানবাসী। হাজার হাজার মানুষের হাহাকার আর কান্নায় থমথমে ইমাম আলী রেজার মাজার শরীফ। হামলার শঙ্কা আর মৃত্যু ভয় পেছনে ফেলে রাজধানী তেহরানের রাজপথে অগণিত মানুষের ভিড়। জাতীয় এই শোকের উল্টো দিকে আছে রাজতন্ত্রপন্থী আর খামেনি বিরোধীদের উল্লাস। তবে সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয় ইরান। ইরানকে নেতৃত্ব দিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন তিন সদস্যের অস্থায়ী কাউন্সিল গঠন করেছে দেশটি।

এ যে এক শোকের নগরী। বাতাসে বারুদের গন্ধ, দূর থেকেও শোনা যায় কান্নার শব্দ। মসজিদ, মাজার, মহাসড়ক, অলিগলি- যেখানে চোখ যায় সেখানেই সর্বশান্ত মানুষের হাহাকার। মাতম ইরানজুড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, যেকোনো মুহূর্তে হামলার শঙ্কা, মৃত্যুর পরোয়ানা- কোনো কিছুরই আর তোয়াক্কা করছেন না ইরানবাসী। ছুটে এসেছেন শোক আর ক্ষোভ নিয়ে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এভাবেই তাকে স্মরণ করেছেন অনুসারীরা। বুক চাপড়ে কেঁদে, প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘ যাত্রা কামনা করে স্লোগান দিয়েছেন অনেকে। লাখো মানুষের ঢল নামে ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানের নাকস-ই-জাহান স্কয়ারে। সাধারণ জনগণের আরেকটি বড় অংশ ছুটে যায় মাশহাদে ইমাম আলী রেজার মাজার শরীফে। যেখানে শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সমাহিত করার রীতি আছে।

এই শোকের বিপরীতে উল্লাস করেছে সরকার বিরোধীদের একাংশ। শনিবার রাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলার পরপরই রাজপথে নেমে আসেন রাজতন্ত্র সমর্থকদের একাংশ। এসময় খামেনি বিরোধী স্লোগান দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে তা পূরণে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে অস্থায়ী কাউন্সিল। সরকারি বার্তা সংস্থার তথ্য, অন্তর্বর্তী সময়ে এই কাউন্সিলই নেতৃত্ব দেবে ইরানকে।