ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোলাপি বলের টেস্ট না খেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংল্যান্ডের রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়। গোলাপি বলের টেস্ট খেলতেও আপত্তি দলটির। অস্ট্রেলিয়ায় আগামী অ্যাশেজ সিরিজে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলার যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড। অর্থাৎ, ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বল ব্যবহার করে টেস্ট খেলতে তারা রাজি নয় তারা।

বিবিসির প্রতিবেদন জানিয়েছে, ২০২৯–৩০ মৌসুমের অ্যাশেজকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাদের দিবা-রাত্রির টেস্ট না খেলার অবস্থানের কথা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড (সিএ)–কে জানিয়েছে। সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজ শেষে দুই বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনার সময়ই বিষয়টি উঠে আসে।

গত মাসে অ্যাশেজে ব্রিসবেনের গ্যাবায় অনুষ্ঠিত একপেশে দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংল্যান্ড আট উইকেটে হেরে যায়। অজিদের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বেন স্টোকসের দল ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত ৪–১ ব্যবধানে হারেই শেষ করে।

ইসিবি ও সিএ–এর আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল—টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যখন হুমকির মুখে, অ্যাশেজকে কীভাবে তার মর্যাদাসম্পন্ন সিরিজ হিসেবেই ধরে রাখা যায়। এরই মধ্যে ২০২৭ সালের মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া একটি একমাত্র দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ চূড়ান্ত । ওই ভেন্যুতেই প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে এই পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, এমসিজির ওই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও পাবে ইংল্যান্ড।

তবে দেড়শ বছরপূর্তির টেস্টটি দিবা-রাত্রির করার সিদ্ধান্ত সবার কাছে জনপ্রিয় মনে হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা হতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদন একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এক প্রভাবশালী সাবেক ক্রিকেটার সরাসরি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং ম্যাচটি গোলাপি বলের বদলে লাল বলের টেস্ট হিসেবে আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন।

অবশ্য গোলাপি বলের টেস্ট সম্প্রচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয়। সময়সূচি দর্শকবান্ধব হওয়ায় ব্রিসবেনের অ্যাশেজ টেস্টটি পার্থ ও অ্যাডিলেডের ম্যাচগুলোর চেয়ে বেশি দর্শক টেনেছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার স্বাগতিক সম্প্রচারক সেভেন ও ফক্সের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন কোনো চুক্তি নেই যে প্রতি বছর একটি করে গোলাপি বলের টেস্ট আয়োজন করতেই হবে।

দর্শক আগ্রহ বাড়ানোর আশায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০১৫ সালে দিবা-রাত্রির টেস্টের অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় এই ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন পর্যন্ত খেলা হওয়া ২৫টি দিবা-রাত্রির টেস্টের মধ্যে ১৪টিই হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়।

এই ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। মোট ১৫টি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলে প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্করা জিতেছে ১৪টিতেই। বিপরীতে ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র দুটি, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় চারটি ম্যাচেই তারা হেরেছে।

ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট প্রশ্ন তুলেছিলেন—অ্যাশেজে আদৌ গোলাপি বলের টেস্ট প্রয়োজন কি না। রুট বলেন, ‘এমন একটা সিরিজে কি এটা প্রয়োজন আছে? আমার তো মনে হয় না। তবে তাই বলে এখানে হওয়া উচিত নয়—এ কথাও বলছি না।’

রঙ আলাদা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহৃত গোলাপি ও লাল বল পেস বোলারদের জন্য সুইং বা সীম মুভমেন্টে আলাদা কোনো সুবিধা দেয় না। তবে আসল চ্যালেঞ্জটা ব্যাটারদের জন্য—ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বল ঠিকমতো দেখতে পাওয়া। আর এই কারণেই দিবা-রাত্রির টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

গোলাপি বলের টেস্ট না খেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইংল্যান্ড

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংল্যান্ডের রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয়। গোলাপি বলের টেস্ট খেলতেও আপত্তি দলটির। অস্ট্রেলিয়ায় আগামী অ্যাশেজ সিরিজে দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলার যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড। অর্থাৎ, ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বল ব্যবহার করে টেস্ট খেলতে তারা রাজি নয় তারা।

বিবিসির প্রতিবেদন জানিয়েছে, ২০২৯–৩০ মৌসুমের অ্যাশেজকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাদের দিবা-রাত্রির টেস্ট না খেলার অবস্থানের কথা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড (সিএ)–কে জানিয়েছে। সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজ শেষে দুই বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনার সময়ই বিষয়টি উঠে আসে।

গত মাসে অ্যাশেজে ব্রিসবেনের গ্যাবায় অনুষ্ঠিত একপেশে দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংল্যান্ড আট উইকেটে হেরে যায়। অজিদের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বেন স্টোকসের দল ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত ৪–১ ব্যবধানে হারেই শেষ করে।

ইসিবি ও সিএ–এর আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল—টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যখন হুমকির মুখে, অ্যাশেজকে কীভাবে তার মর্যাদাসম্পন্ন সিরিজ হিসেবেই ধরে রাখা যায়। এরই মধ্যে ২০২৭ সালের মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া একটি একমাত্র দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ চূড়ান্ত । ওই ভেন্যুতেই প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে এই পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, এমসিজির ওই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও পাবে ইংল্যান্ড।

তবে দেড়শ বছরপূর্তির টেস্টটি দিবা-রাত্রির করার সিদ্ধান্ত সবার কাছে জনপ্রিয় মনে হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা হতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদন একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এক প্রভাবশালী সাবেক ক্রিকেটার সরাসরি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং ম্যাচটি গোলাপি বলের বদলে লাল বলের টেস্ট হিসেবে আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন।

অবশ্য গোলাপি বলের টেস্ট সম্প্রচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয়। সময়সূচি দর্শকবান্ধব হওয়ায় ব্রিসবেনের অ্যাশেজ টেস্টটি পার্থ ও অ্যাডিলেডের ম্যাচগুলোর চেয়ে বেশি দর্শক টেনেছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার স্বাগতিক সম্প্রচারক সেভেন ও ফক্সের সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন কোনো চুক্তি নেই যে প্রতি বছর একটি করে গোলাপি বলের টেস্ট আয়োজন করতেই হবে।

দর্শক আগ্রহ বাড়ানোর আশায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০১৫ সালে দিবা-রাত্রির টেস্টের অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় এই ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন পর্যন্ত খেলা হওয়া ২৫টি দিবা-রাত্রির টেস্টের মধ্যে ১৪টিই হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়।

এই ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। মোট ১৫টি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলে প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্করা জিতেছে ১৪টিতেই। বিপরীতে ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র দুটি, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় চারটি ম্যাচেই তারা হেরেছে।

ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট প্রশ্ন তুলেছিলেন—অ্যাশেজে আদৌ গোলাপি বলের টেস্ট প্রয়োজন কি না। রুট বলেন, ‘এমন একটা সিরিজে কি এটা প্রয়োজন আছে? আমার তো মনে হয় না। তবে তাই বলে এখানে হওয়া উচিত নয়—এ কথাও বলছি না।’

রঙ আলাদা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহৃত গোলাপি ও লাল বল পেস বোলারদের জন্য সুইং বা সীম মুভমেন্টে আলাদা কোনো সুবিধা দেয় না। তবে আসল চ্যালেঞ্জটা ব্যাটারদের জন্য—ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বল ঠিকমতো দেখতে পাওয়া। আর এই কারণেই দিবা-রাত্রির টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক।