ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জোড়া লাল কার্ড আর বিব্রতকর হারে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন রিয়ালের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এর চেয়ে বাজে আর কি ঘটতে পারতো? দলের সেরা ডিফেন্ডারের চোট, একবার নয় দু’বার লাল কার্ড দেখা, ১৯ বছর পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হার। বিপর্যস্ত, শোচনীয় কিংবা বেহাল হালের মতো শব্দও যেন বর্ণনা করতে পারছে না স্প্যানিশ জায়ান্টদের বর্তমান পরিস্থিতিকে।

প্রায় ৩৬ দিন পর ঘরে ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরার আনন্দ ধূলোয় মিশে গেল অধঃপতনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক ম্যাচে। লা লিগায় গতকাল রাতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়ালের জন্য আরও বিব্রতকর বিষয় হচ্ছে প্রতিপক্ষের এক আনাড়ি আর অনিয়মিত খেলোয়াড় তাদের জালে দুই দফা বল পাঠিয়েছে। বদলি নেমে সেল্টা ভিগোর সুইডিশ উইঙ্গার উইলিয়ট ‍সুইডবার্গ জোড়া গোল করেন। আর রিয়ালের দুর্দশা কয়েকগুন বাড়িয়ে লাল দেখেন ফ্রান গার্সিয়া ও আলভারো কারেয়াস।

লিগে টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর সবশেষ অ্যাথলেটিক বিলাবাওকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে প্রত্যাবর্তনের আভাস দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবার হেরেই গিয়ে জাবি আলোনসোর দল যেন প্রমাণ করল মৌসুমটা এভাবে ধুঁকতে ধুঁকতেই শেষ করতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। আগামী বুধবার ঘরের মাঠেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই ম্যাচেও ইতিবাচক ফল না এলে বোধহয় চাকরিটাই হারাবেন জাবি আলোনসো।

সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে এই হারে লিগ জয়ের দৌড় থেকেও অনেকটাই ছিটকে গেল রিয়াল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা থেকে পয়েন্ট টেবিলে এখন তারা ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। ১৬ ম্যাচে ১১ জয়, ৩ ড্র ও ২ হারে রিয়ালের পয়েন্ট ৩৬। রিয়ালের মুখোমুখি হওয়ার আগে লিগে মাত্র তিনবার জয় দেখেছিল সেল্টা ভিগো। এবার লা লিগার সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ১৫ ম্যাচে চার জয়ে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে উঠে এল তারা।

অথচ নিজেদের মাঠে লক্ষ্যে শট নেওয়া কিংবা গোলের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল রিয়ালই। তবে সুযোগ হাতছাড়ার সঙ্গে লাল কার্ডের খড়গ তাদের পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা মোট ২৩টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে মোট সাতটি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রেখে দুইটি গোলে পরিণত করে সেল্টা ভিগো।

নিজেদের হারিয়ে খোঁজা রিয়াল ম্যাচের শুরুতে ছন্দের খোঁজেই ছিল। এর মাঝেই বড় এক ধাক্কা খায় তারা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে আঘাত পান এদের মিলিতাও। পরে তিনি মাঠ ছাড়েন দুই জনের কাঁধে ভর দিয়ে। এসিএলের চোট থেকে ফিরতে না ফিরতেই আবার আবার ছিটকে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। ২৪ মিনিটে তাঁর বদলি নামেন জার্মান ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার।

রিয়ালের আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই ভোঁতা। স্বাগতিকরা প্রথম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ৩৯ মিনিটে। তবে তুরস্কের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্দা গুলেরের নেওয়া শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধে লিড নেওয়ার সুযোগ এসেছিল সফরকারী দলেরও। তবে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুরানের বদলি নেমে সেল্ট ভিগোকে এগিয়ে দেন উইলিয়ট ‍সুইডবার্গ। ৫৩ বক্সের ভেতর বাঁ দিক থেকে সারাগোসার পাস পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ব্যাকহিল ফ্লিকে জালে পাঠান অরক্ষিত সুইডিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

৬৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় রেয়াল। পরপর দুই মিনিটে দু’বার হলুদ কাড দেখে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় ফ্রান গার্সিয়াকে। এরপর দশজনের দল নিয়েও গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। তবে রাতটা ছিল রিয়ালের জন্য অপয়া। গোল পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো যোগ করা সময়ে আরেক দফা হোঁচট খায় রিয়াল।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে উইলিয়টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আলভারো কারেরাস। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কয়েক সেকেন্ড পর লাল কার্ড দেখেন এই ডিফেন্ডার। পাশাপাশি রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ফেদেরিকো ভালভের্দে ও রদ্রিগো।

বিধ্বস্ত রিয়ালকে বাগে পেয়ে পরের মিনিটেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের কফিরে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়ে জোড়া গোল পূর্ণ করেন উইলিয়ট। রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ২০০৬ সালের পর রিয়ালের মাঠে জয় পাওয়ার আনন্দে ভাসে সেল্টা ভিগো।

নিউজটি শেয়ার করুন

জোড়া লাল কার্ড আর বিব্রতকর হারে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন রিয়ালের

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এর চেয়ে বাজে আর কি ঘটতে পারতো? দলের সেরা ডিফেন্ডারের চোট, একবার নয় দু’বার লাল কার্ড দেখা, ১৯ বছর পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হার। বিপর্যস্ত, শোচনীয় কিংবা বেহাল হালের মতো শব্দও যেন বর্ণনা করতে পারছে না স্প্যানিশ জায়ান্টদের বর্তমান পরিস্থিতিকে।

প্রায় ৩৬ দিন পর ঘরে ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরার আনন্দ ধূলোয় মিশে গেল অধঃপতনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক ম্যাচে। লা লিগায় গতকাল রাতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়ালের জন্য আরও বিব্রতকর বিষয় হচ্ছে প্রতিপক্ষের এক আনাড়ি আর অনিয়মিত খেলোয়াড় তাদের জালে দুই দফা বল পাঠিয়েছে। বদলি নেমে সেল্টা ভিগোর সুইডিশ উইঙ্গার উইলিয়ট ‍সুইডবার্গ জোড়া গোল করেন। আর রিয়ালের দুর্দশা কয়েকগুন বাড়িয়ে লাল দেখেন ফ্রান গার্সিয়া ও আলভারো কারেয়াস।

লিগে টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর সবশেষ অ্যাথলেটিক বিলাবাওকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে প্রত্যাবর্তনের আভাস দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবার হেরেই গিয়ে জাবি আলোনসোর দল যেন প্রমাণ করল মৌসুমটা এভাবে ধুঁকতে ধুঁকতেই শেষ করতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। আগামী বুধবার ঘরের মাঠেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই ম্যাচেও ইতিবাচক ফল না এলে বোধহয় চাকরিটাই হারাবেন জাবি আলোনসো।

সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে এই হারে লিগ জয়ের দৌড় থেকেও অনেকটাই ছিটকে গেল রিয়াল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা থেকে পয়েন্ট টেবিলে এখন তারা ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। ১৬ ম্যাচে ১১ জয়, ৩ ড্র ও ২ হারে রিয়ালের পয়েন্ট ৩৬। রিয়ালের মুখোমুখি হওয়ার আগে লিগে মাত্র তিনবার জয় দেখেছিল সেল্টা ভিগো। এবার লা লিগার সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ১৫ ম্যাচে চার জয়ে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে উঠে এল তারা।

অথচ নিজেদের মাঠে লক্ষ্যে শট নেওয়া কিংবা গোলের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল রিয়ালই। তবে সুযোগ হাতছাড়ার সঙ্গে লাল কার্ডের খড়গ তাদের পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা মোট ২৩টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে মোট সাতটি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রেখে দুইটি গোলে পরিণত করে সেল্টা ভিগো।

নিজেদের হারিয়ে খোঁজা রিয়াল ম্যাচের শুরুতে ছন্দের খোঁজেই ছিল। এর মাঝেই বড় এক ধাক্কা খায় তারা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে আঘাত পান এদের মিলিতাও। পরে তিনি মাঠ ছাড়েন দুই জনের কাঁধে ভর দিয়ে। এসিএলের চোট থেকে ফিরতে না ফিরতেই আবার আবার ছিটকে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। ২৪ মিনিটে তাঁর বদলি নামেন জার্মান ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার।

রিয়ালের আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই ভোঁতা। স্বাগতিকরা প্রথম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ৩৯ মিনিটে। তবে তুরস্কের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্দা গুলেরের নেওয়া শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধে লিড নেওয়ার সুযোগ এসেছিল সফরকারী দলেরও। তবে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুরানের বদলি নেমে সেল্ট ভিগোকে এগিয়ে দেন উইলিয়ট ‍সুইডবার্গ। ৫৩ বক্সের ভেতর বাঁ দিক থেকে সারাগোসার পাস পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ব্যাকহিল ফ্লিকে জালে পাঠান অরক্ষিত সুইডিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

৬৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় রেয়াল। পরপর দুই মিনিটে দু’বার হলুদ কাড দেখে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় ফ্রান গার্সিয়াকে। এরপর দশজনের দল নিয়েও গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। তবে রাতটা ছিল রিয়ালের জন্য অপয়া। গোল পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো যোগ করা সময়ে আরেক দফা হোঁচট খায় রিয়াল।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে উইলিয়টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আলভারো কারেরাস। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কয়েক সেকেন্ড পর লাল কার্ড দেখেন এই ডিফেন্ডার। পাশাপাশি রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ফেদেরিকো ভালভের্দে ও রদ্রিগো।

বিধ্বস্ত রিয়ালকে বাগে পেয়ে পরের মিনিটেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের কফিরে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়ে জোড়া গোল পূর্ণ করেন উইলিয়ট। রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ২০০৬ সালের পর রিয়ালের মাঠে জয় পাওয়ার আনন্দে ভাসে সেল্টা ভিগো।