ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় আগের দুই সিইসি এখন কারাগারে : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনকানুনের মধ্যেই কমিটমেন্ট অনুযায়ী কাজ করছি। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন সিইসি।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক সিইসিকে প্রশ্ন করেন, এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিবে। আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কারাগারে আছেন। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরিণতি তাঁকে ভাবায় কি না?

জবাবে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেই লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই কাজ করছি। আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ্য) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

এর আগে অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তৃতায় সিইসি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের দিন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনার কাজ পরিচালনা করবেন। প্রার্থী বা তাঁদের মনোনীত এজেন্ট, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

সিইসি জানান, ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটকেন্দ্রেই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। এভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি–নির্বিশেষে সব ভোটারকে অবাধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্বচ্ছতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এ নির্বাচনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। এ ছাড়া ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন কাভার করছেন। দেশীয়ভাবে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিকের অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।সব অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।’

সিইসি বলেন, কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটারদের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে কমিশন, যাতে ভোটাররা কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাগত জানানো হচ্ছে। তাঁরা নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করতে পারবেন।’

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের যাত্রার শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব। এভাবে আপনাদের সম্পৃক্ততা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনাদের পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় আগের দুই সিইসি এখন কারাগারে : সিইসি

আপডেট সময় : ০৩:৫০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনকানুনের মধ্যেই কমিটমেন্ট অনুযায়ী কাজ করছি। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন সিইসি।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক সিইসিকে প্রশ্ন করেন, এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিবে। আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কারাগারে আছেন। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরিণতি তাঁকে ভাবায় কি না?

জবাবে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেই লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই কাজ করছি। আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ্য) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

এর আগে অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তৃতায় সিইসি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের দিন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনার কাজ পরিচালনা করবেন। প্রার্থী বা তাঁদের মনোনীত এজেন্ট, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

সিইসি জানান, ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটকেন্দ্রেই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। এভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি–নির্বিশেষে সব ভোটারকে অবাধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্বচ্ছতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এ নির্বাচনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। এ ছাড়া ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন কাভার করছেন। দেশীয়ভাবে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিকের অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।সব অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।’

সিইসি বলেন, কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটারদের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে কমিশন, যাতে ভোটাররা কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাগত জানানো হচ্ছে। তাঁরা নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করতে পারবেন।’

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের যাত্রার শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব। এভাবে আপনাদের সম্পৃক্ততা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনাদের পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’