নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। আজ (শনিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মুছাম্মত রুকসিনা সিদ্দিকা বলেন, যদি পূর্ববর্তী রায়গুলো সঠিকভাবে কার্যকর হতো, তবে তাহিয়া আমিনা বা অন্যান্য নারী ও শিশুদের জীবন দিতে হতো না। আইন কেবল কিতাবে বা বইয়ে থাকলেই হবে না, বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ না থাকলে সেই আইনের কোনো মূল্য নেই।
তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের হলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা তাদের নিজেদের ঘরে বা পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। জনগণের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
বক্তব্যে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আমেনা বেগম বলেন, যেখানে রমজান মাস আমাদের জন্য শান্তি সুরক্ষার মাস সেখানে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। শিশু নারীদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে দেখতে পাচ্ছি আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের মতো নব্য আইয়ামে জাহেলিয়া। যেখানে শিশুদের ওপর জাহেলিয়াত যুগের ন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মার্জিয়া বেগম বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধনে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম।
দাবিগুলো হলো-
১. সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এ ধরণের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
৪. রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
৬. আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।
৬. প্রতিটি মা-বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭. গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৮. যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে- তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০. শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর, কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাকিবুন্নাহার মুন্নী, ঢাকা মহানগরে দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটার জান্নাতুল কারীম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি আমেনা বেগম প্রমুখ।











