ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি উত্তাপ, সহিংসতায় প্রাণহানি—ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্বাচনি উত্তাপ রাজপথে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কখনও জড়িয়ে পড়ছেন বাকযুদ্ধে। কখনও সংঘর্ষে। এরইমধ্যেই প্রতিপক্ষের হামলায় শতাধিক ব্যক্তি আহতের পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বড় দুই দলই নেতাকর্মীদের ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাজিয়েছে নিরাপত্তা?

ঘটনার সূত্রপাত চেয়ারে বসা নিয়ে। অনড় দুই পক্ষ। ঘণ্টাব্যাপি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সঙ্গে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা। ফলাফল হাসপাতালে অর্ধশতাধিক, নিহত উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল করিম ।

নির্বাচনি সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর প্রথম ৪৭ দিনে ৫ জন নিহত ও শতাধিক আহ হয়েছে নির্বাচনি সহিংসতায়। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৪৭টি।

এমন পরিস্থিতিতে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্য বলছে। মেট্রোপলিটন এলাকা, মেট্রোপলিটনের বাইরের এলাকা ও বিশেষ এলাকা ভিত্তিক সাজানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা।

মেট্রোপলিটন এলাকা গুরুত্ব বিবেচনায় সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ দুইভাগে বিভক্ত করে আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা সাজিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রসহ পুলিশ, তিনজন অস্ত্রসহ ব্যাটেলিয়ান আনসার, দশজন আনসার ভিডিপি ও দুইজন গ্রাম পুলিশ থাকবে দায়িত্বে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের সংখ্যা একজন বেশি থাকবে।

এছাড়া মেন্ট্রোপলিটন এলাকার বাইরে দুইজন অস্ত্রসহ পুলিশ, তিনজন অস্ত্রসহ ব্যাটেলিয়ান আনসার ও ১০ জন আনসার-ভিডিপি লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন। যদি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয় সে ক্ষেত্রে একজন বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।

দুর্গম এলাকা চিত্র একই। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় এক ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট, আর্মির টহল টিম, উপজেলা ভিত্তিক র‌্যাবের টিম ও ব্যাটেলিয়ান আনসার স্টাইকিং ফোর্স কাজ করবে।

পুলিশ বলছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

আনসার ও ভিডিপির মুখপাত্র মো. আশিকউজ্জামান বলেন, ‘৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে প্রতিটিতেই ১৩জন করে আনসান ও বিজিবি সদস্য ডিউটি পালন করবে। ১৩জন সদস্যর মধ্যে তিনজন দায়িত্ব পালন করবে অস্ত্রসহ। বাংলাদেশে ৫০০টির মতো উপজেলা আছে প্রতি উপজেলাতেই দুটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। প্রতিটি স্ট্রাইকিং ফোর্সে দশজন করে ব্যাটলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হবে।’

ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও।

পুলিশ হেডকোয়াটার্স মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনন্স এ এইচ এম শাহদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের দেড়লাখ পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা সবাই দায়িত্ব পালন করবে। কোন কেন্দ্রে কতজন দায়িত্ব পালন করবে এটি ডিপেন্ড করবে ঝুঁকির ওপর।’

অপরাধ বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘আমি মনে করি আজ থেকে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত এ সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব গোয়েন্দা সংস্থার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট যুদ্ধের বড় চিন্তা সহিংসতা। সেটা কতটুকু নিয়ন্ত্রণে রেখে সুষ্ঠু ভোট উপহার দিতে পারে নির্বাচন কমিশন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনি উত্তাপ, সহিংসতায় প্রাণহানি—ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনি উত্তাপ রাজপথে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কখনও জড়িয়ে পড়ছেন বাকযুদ্ধে। কখনও সংঘর্ষে। এরইমধ্যেই প্রতিপক্ষের হামলায় শতাধিক ব্যক্তি আহতের পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বড় দুই দলই নেতাকর্মীদের ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাজিয়েছে নিরাপত্তা?

ঘটনার সূত্রপাত চেয়ারে বসা নিয়ে। অনড় দুই পক্ষ। ঘণ্টাব্যাপি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সঙ্গে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা। ফলাফল হাসপাতালে অর্ধশতাধিক, নিহত উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল করিম ।

নির্বাচনি সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর প্রথম ৪৭ দিনে ৫ জন নিহত ও শতাধিক আহ হয়েছে নির্বাচনি সহিংসতায়। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৪৭টি।

এমন পরিস্থিতিতে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্য বলছে। মেট্রোপলিটন এলাকা, মেট্রোপলিটনের বাইরের এলাকা ও বিশেষ এলাকা ভিত্তিক সাজানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা।

মেট্রোপলিটন এলাকা গুরুত্ব বিবেচনায় সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ দুইভাগে বিভক্ত করে আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা সাজিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রসহ পুলিশ, তিনজন অস্ত্রসহ ব্যাটেলিয়ান আনসার, দশজন আনসার ভিডিপি ও দুইজন গ্রাম পুলিশ থাকবে দায়িত্বে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের সংখ্যা একজন বেশি থাকবে।

এছাড়া মেন্ট্রোপলিটন এলাকার বাইরে দুইজন অস্ত্রসহ পুলিশ, তিনজন অস্ত্রসহ ব্যাটেলিয়ান আনসার ও ১০ জন আনসার-ভিডিপি লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন। যদি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয় সে ক্ষেত্রে একজন বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।

দুর্গম এলাকা চিত্র একই। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় এক ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট, আর্মির টহল টিম, উপজেলা ভিত্তিক র‌্যাবের টিম ও ব্যাটেলিয়ান আনসার স্টাইকিং ফোর্স কাজ করবে।

পুলিশ বলছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

আনসার ও ভিডিপির মুখপাত্র মো. আশিকউজ্জামান বলেন, ‘৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে প্রতিটিতেই ১৩জন করে আনসান ও বিজিবি সদস্য ডিউটি পালন করবে। ১৩জন সদস্যর মধ্যে তিনজন দায়িত্ব পালন করবে অস্ত্রসহ। বাংলাদেশে ৫০০টির মতো উপজেলা আছে প্রতি উপজেলাতেই দুটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। প্রতিটি স্ট্রাইকিং ফোর্সে দশজন করে ব্যাটলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হবে।’

ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও।

পুলিশ হেডকোয়াটার্স মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনন্স এ এইচ এম শাহদাত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের দেড়লাখ পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা সবাই দায়িত্ব পালন করবে। কোন কেন্দ্রে কতজন দায়িত্ব পালন করবে এটি ডিপেন্ড করবে ঝুঁকির ওপর।’

অপরাধ বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘আমি মনে করি আজ থেকে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত এ সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব গোয়েন্দা সংস্থার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট যুদ্ধের বড় চিন্তা সহিংসতা। সেটা কতটুকু নিয়ন্ত্রণে রেখে সুষ্ঠু ভোট উপহার দিতে পারে নির্বাচন কমিশন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।