বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রশংসা, ভারতকে ধুয়ে দিলেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি
- আপডেট সময় : ১১:০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলেও আইসিসি তাতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়া হয় টাইগারদের। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সব খেলা শ্রীলঙ্কায় হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার হয়েছে মনে করায় ভারত ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে দেখে খুশি ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। প্রতিবেদন হিন্দুস্তান টাইমসের।
পাকিস্তানের ভারত বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে আইসিসি। তাদেরকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য নাকি পেছনে পেছনে আলোচনা চালাচ্ছে আইসিসি। যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তারা তাদের অবস্থান বজায় রাখবেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আইসিসির চলমান সংঘাতের মধ্যে হুসেইন জানান, তিনি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের অনঢ় অবস্থানকে পছন্দ করেছেন। কারণ এবার সময় এসেছে, যখন কাউকে ‘এখনই (রাজনীতি) থামানোর’ কথা বলা উচিত। খেলাধুলায় রাজনীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
হুসেইন স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে মাইকেল আথারটনের সাথে এক আলাপে বলেন, ‘বাংলাদেশকে তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে দেখতে আমার ভালো লেগেছে। তারা তাদের খেলোয়াড়, মুস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এবং আমি পাকিস্তানকেও পছন্দ করেছি, আমি জানি এটি রাজনৈতিক, কিন্তু আমি পাকিস্তানকে পছন্দ করেছি যে তারা বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এবার সময় এসেছে, কাউকে না কাউকে বলতে হবে, ‘‘এখনই থামো, খেলাধুলায় রাজনীতি নয়।’’’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ পাকিস্তান এই একমাত্র উপায়ে আইসিসি বা ভারতের ক্ষতি করতে পারে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না খেলে; অর্থ ও আর্থিক প্রভাব কমিয়ে। এটাই একমাত্র উপায়।’
হুসেইন জানান, বর্তমান পরিস্থিতি হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। কারণ রাজনীতি এখনও খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এ সময় ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের নাটকীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান মহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।
হুসেইন বলেন, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক। খেলাধুলা, ক্রিকেট এবং রাজনীতি সবসময় একসঙ্গে জড়িত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্ক আরো বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এটা একসময় ব্যতিক্রম ছিল, কিন্তু এখন এটি সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে। শুধু রাজনীতিবিদরা নয়, খেলোয়াড়রাও এর অংশ হয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে আমি খেলোয়াড়দের দেখেছি, এটা সত্যিই হতাশাজনক, হাত না মেলানো বা ট্রফি না নেয়া। ক্রিকেট একসময় দেশগুলোকে একত্রিত করত, যেসব দেশ সমস্যার সম্মুখীন ছিল, কিন্তু এখন এটি মানুষদের আলাদা করে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি সাম্প্রতিক এই সংকটের সূচনা কোথায় তা মনে করেন, তা হলো—মুস্তাফিজুর রহমান কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলছেন, বা তার নাম স্কোয়াডে ছিল, এবং হঠাৎ করে বিসিসিআই বলল, ‘‘না, তাকে এই স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হবে’’। বাংলাদেশের এবং ভারতের মধ্যে চলমান সমস্যার কারণে, ওই এক সিদ্ধান্তের কারণে সমস্ত পরিস্থিতি একে একে জটিল হয়ে যায়।’
নাসের প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের জায়গায় যদি ভারত সূচি পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতো তবে কি পরিস্থিতি আলাদা হতো? তিনি বলেন, ‘আমি আইসিসির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি রাখছি, কারণ শেষ মুহূর্তে (সূচি পরিবর্তনের) এই সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ছিল না। তবে আইসিসিসে উত্তর দিতে হবে, যদি ভারত এক মাস আগে বলে, ‘‘আমাদের সরকার আমাদের ওই দেশে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে দিচ্ছে না’’, তাহলে কি আইসিসি এত দৃঢ়ভাবে বলত, ‘‘আপনারা নিয়ম জানেন, দুঃখিত, আমরা আপনাদের বাদ দিচ্ছি’’? এই প্রশ্নটাই সব পক্ষই জানতে চায়, সামঞ্জস্যতা কোথায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে সেভাবেই স্বাগত জানাতে হবে, যেমন ভারতকে বা পাকিস্তানকে করা হয়। এখন ভারতের সমর্থকরা হয়তো বলবেন, ‘‘আরও কাঁদুন, আমাদের কাছে অর্থ আছে’’, কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়বদ্ধতাও আসে। যদি আপনি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে বারবার বাদ দেন, তাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে, এবং তাই ভারত ও পাকিস্তান বা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চমৎকার ম্যাচগুলো আগে হয়েছে, তা এখন একপেশে হয়ে গেছে।’





















