ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্ভাধন ঘোষণা করেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং বহিঃবিশ্বেও দেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রগতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে ১ম বারের মত ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’— শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের নিকট দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে।

এ সময়, বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।

উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার।

এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০১:৩০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্ভাধন ঘোষণা করেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং বহিঃবিশ্বেও দেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রগতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে ১ম বারের মত ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’— শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের নিকট দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে।

এ সময়, বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।

উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার।

এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।