বাজারে আলুর দরপতন, কৃষকদের মাথায় হাত
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার আগাম আলু আবাদ করেছেন উত্তরের জেলা জয়পুরহাটের চাষিরা। শুরু হয়েছে আলু তোলার কাজও। তবে শুরুতে দাম ভালো পেলেও এখন গ্রানোলা জাতের আলুর মণ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। পাইকারিতে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা।
এতে মৌসুমের শুরুতেই আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তাই ধান, চাল ও গমের মতো আলুর দামও নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি তাদের।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর গ্রানোলা জাতের আলুর চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা দাম কম পাচ্ছেন। তাই চাহিদা ও জাত ভেদে আলু চাষের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
জানা গেছে, গতবারের লোকসান পোষাতে এবার আগেভাগেই আলু আবাদ করায় বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে বীজ। সেই সঙ্গে সার ও কৃষি উপকরণের দামও বাড়তি। কৃষকদের দাবি, এক বিঘা আলু চাষে উৎপাদন খরচ পড়েছে ২০/২১ হাজার টাকা। আর সে জমি থেকে উৎপাদিত আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। জমি থেকে আলু উত্তোলন করে বাজারে নিয়ে বিক্রি করার ক্ষেত্রেও পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। তাই বাধ্য হয়ে কম দাম হলেও জমি থেকেই সরাসরি আলু বিক্রি করছেন কৃষকরা। তবে মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম ভালোই পেয়েছেন তারা।
জেলার আক্কেলপুর উপজেলার কলেজ বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা চাষিরা জানান, বাজারে গ্রানোলা জাতের আলু ১৮০ থেকে ২০০; ক্যারেজ জাতের আলু ৩০০ থেকে ৩৫০; রোমানা জাতের (লাল) আলু ৩২০ ও বট মিউজিকা (লাল) জাতের আলুর মণ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।
আলুর পাইকারি ক্রেতা রাজু আহমেদ ও মিলন হোসেন বলেন, ‘আলুর বাজার একদিন আগে যা ছিল পরের দিন তা থাকছে না। দাম হু হু করে কমে যাচ্ছে। আমরা যেসব আলু কিনছি তা ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁচাবাজারের মূল্য সঠিকভাবে বলা যায় না। কিন্তু আলুর বাজার একেবারেই উঠছে না।’
আক্কেলপুর উপজেলার আওয়ালগাড়ী গ্রামের আলু চাষি নান্টু হোসেন বলেন, ‘জমি থেকে আলু তুলে হাটে নিয়ে বিক্রি করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। যানবাহন খরচ, হাটের খাজনা দিয়ে এক মণ আলু বিক্রি করে ১৬০ টাকা হাতে পাই। তাই দাম কম-বেশি যেটাই হোক বাধ্য হয়ে জমি থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছি। ১৮০ টাকা দরে ৫২ মণ গ্রানোলা আলু বিক্রি করেছি।’
একই গ্রামের ইসলাম হোসেন দাবি করেন, ‘৮০ মণ ক্যারেজ জাতের আলু ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এতে ১৮ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।’
আক্কেলপুর উপজেলার রামশালা গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন জানান, ধান, চাল ও গমের মতো সরকার আলুর দামও নির্ধারণ করে দিক। এতে কৃষক বারবার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
ক্ষেতলাল উপজেলার দেওগ্রামের আলু চাষি হেলাল হোসেন বলেন, ‘গত বছর আলুর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারও বেশি দামে বীজ, সার ও কীটনাশক কিনে তিন বিঘা জমিতে গ্রানোলা ও ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছি। বর্তমানে আলুর যে দাম তাতে মনে হয় জমি থেকে আর আলু তোলাও যাবে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় এবার ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে সদর উপজেলায় সাত হাজার ১০০, পাঁচবিবিতে সাত হাজার, কালাইয়ে ১১ হাজার ১০০, ক্ষেতলালে ৯ হাজার এবং আক্কেলপুরে ছয় হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সাখওয়াত হোসেন বলেন, ‘আলুর ভরা মৌসুম চলছে। এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। আর পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে দামের তারতম্য থাকে। এতে কোনও সিন্ডিকেট বাণিজ্য হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী অপরিকল্পিতভাবে আলু চাষ করাতে এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই জাত ভেদে চাহিদা অনুযায়ী আলু চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’





















