বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডসহ প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্যামিলি কার্ড, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি এবং ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন।
আজ (শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এ ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবে বিএনপি। এতে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। অর্থসেবার এ পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিএনপি ‘কৃষক কার্ড’ চালু করবে বলে জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করবে দলটি। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধা পাবেন এ কার্ডের আওতায়।
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করার কথা বলেছে বিএনপি।
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেছে দলটি।
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা বলে জানিয়েছে বিএনপি। এছাড়া ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই দলটির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির কথা বলা হয়েছে এ ইশতেহারে। বলা হয়েছে, লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এ নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।





















