ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামে ধ্বস হলেও দেশে কমছে না : ক্যাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নগরীর পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, এলপিজি ও জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পরবর্তী বিষয়গুলি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময় সভা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির জ্বালানী উপদেষ্ঠা ও দেশের বিশিষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম. শামসুল আলম।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক এম. শামসুল আলম বলেন চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বানিজ্যিক, বন্দর ও শিল্প নগরী। বন্দর নগরী হিসাবে পানি, বিদ্যুত, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে সরকারের অনেক গুরুত্ব প্রদানের কথা থাকলেও এখাতের সরকারি সংস্থাগুলির সাথে সরাসরি আলোচনা ও তাদের প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক অনেক জায়গায় গড়মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা দেশের শিল্প, কলকারখানা ও উৎপাদনে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরী করবে। তবে যেহেতু বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমস্যা, জনগন ও ভোক্তারা অনেক কিছু মেনে নিতে শুরু করেছেন। সরকারের মাঠ পর্যায়ে কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বপালনে গাফলতি থাকলেও নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার অভাব নেই। মাঠ পর্যায়ের অসংগতি ও সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলি সমাধানের জন্য ক্যাব সরকারের নীতি নির্ধারক, মন্ত্রনালয়, এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনে উপস্থাপন করেন। যেখানে ব্যর্থয় ঘটে, সেখানে প্রয়োজনে ভোক্তাদের বৃহত্তর স্বার্থে আইনী প্রতিকার কামনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন পানি, বিদ্যুত ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় অবকাঠামো তৈরী করা হয়ে আছে। কিন্তু উৎসস্থলে সরববরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে সক্ষমতা তৈরী হয়নি। এটা এ সমস্ত সেবার ক্ষেত্রে বড় হুমকি। একটা সময় এসমস্ত খাতে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তুষ্ঠি দানাবেঁধে উঠবে। বিতরণের ক্ষেত্র তৈরীর পাশাপাশি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া চলমান আছে তা সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য শুভকর নয়। কারন ভোক্তাদের মাঝে মানসম্মত ও গুনগত সেবা পৌঁছানো, অধিকতর কমসামর্থবানদের কাছে সেবা নিশ্চিত করা না গেলে বৈষম্যের মাত্রা সামাজিক অস্থিরতা তৈরী করবে। উন্নয়ন প্রকল্পে নাগরিক পরীবিক্ষন না থাকায় সুশাসনের ঘাটতির কারনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো স্থায়ী বাসা বাঁধছে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনে সকল পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষমতা ও প্রভাব এত বেশী হয়ে আছেন, যেখানে সবকিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। সোখানে জেলা পর্যায়ে সরকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন প্রয়োজন অনিয়ম ও ভোগান্তির বিরুদ্ধে তৃণমূলে জনগনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যা রেলের অনিয়ম নিয়ে মহিউদ্দীন রনি শুরু করেছেন।

মুক্ত আলোচনায় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী বিদ্যুত ও গ্যাসে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে সেবা সংস্থাগুলোর দীর্ঘসুত্রিতা, লোডশেডিং এ অব্যবস্থাপনা, গ্যাস ও পানি সরবরাহে ঘোষনাছাড়া সেবা বন্ধ রাখা, চট্টগ্রামে সোয়ারেজ সার্ভিস বিহীন ওয়াসার কর্মকান্ড যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস উৎপাদনে অতিরিক্ত প্রকল্প ব্যয়, প্রকল্পের ব্যয় মাঝপথে দ্বিগুনেরও বেশী বাড়ানো, প্রকল্পে ধীর গতির দায়ভার জনগনের ওপর সুদের বোঝা বাড়াচ্ছেন বলে মত প্রকাশ করেন। বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মাঝে পৌছাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামে ধ্স হলেও দেশে সমন্বয়ে অহেতুক বিলম্ব কার স্বার্থে ? নাজের বলেন,দেশে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যতটুকু আগ্রহী, দাম কমলে কমাতে তেমন আগ্রহী না হবার কারনে ভোজ্যতেলের বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দীর্ঘদিনেও দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম সমন্বয় হয় না। আবার আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমলে ব্যবসায়ীদের উল্টোসুর বেশী দামে কেনা বা বুকিং রেট বেশীসহ নানা অজুহাত। আর্ন্তজাতিক বাজারে ক্রমাগতভাবে দাম কমার পরও দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বানিজ্য মন্ত্রী একাধিক বার আশ্বাস দিলেও সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি। একই সাথে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কী শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে? এই কমিশনের একপক্ষীয় কাজ করলে তা আইনের বরখেলাপ এবং বিষয়টি দেশের ভোক্তা স্বার্থের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধক বলে মন্তব্য করছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ইং আর্ন্তজাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ক্রমাগত কমার কারনে দ্রুত দেশে দাম সমন্বয়ের দাবিতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, যখন বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তি ছিলো, তখন পণ্যটি আমদানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ছাড়াও ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট ছাড়, এলসি কমিশন ও এলসি মার্জিন প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ওই সুবিধা নিয়ে আমদানিকারকরা তেল দেশের বাজারে আসলে দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত ঘটেছে এবং ভোক্তারা তার কোন সুফল পায়নি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, দেশে তার বিপরীতে বাড়ানো হচ্ছে? আবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের উল্টো সুর, ভোজ্যতেলের এফওবি দাম কমলেও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা ভৌতিক কারণে দাম আগের অবস্থানে ফিরছে না বলে দাবি করেন। যা ব্যবসায় সুশাসন, ব্যবসায়িক নীতি নৈতিকতাকেও প্রশ্নের মূখে ফেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে ক্যাব সহ-সভাপতি আরও বলেন, দাম বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে দেখা যায়-গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম পাঁচবার উঠানামা করেছে। এর মধ্যে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারসাজিতে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বেসামাল হয় ভোজ্যতেলের বাজার। ফলে অক্টোবরে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন লিটার ১৬০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য গত রমজানের ঈদের পর ৫ মে’২২ দেশে ভোজ্যতেলের দাম সরকার পুনর্র্নিধারণ করেছিল। ওই সময়ে সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি রেকর্ড পরিমান বাড়িয়ে ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিলো। এরপর বিগত ৯ জুন কোন প্রকার কারণ ছাড়াই মিল পর্যায়ে ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৮০ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৮২ টাকা ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৯৫ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৯৯ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক লিটারের খোলা পাম অয়েলের (সুপার) দাম মিলগেটে ১৫৩ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৫৫ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫৮ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে সয়াবিনের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি ৫-৭ টাকা। আর্ন্তজাতিক বাজারে তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ২০০-৪৯০ ডলার কমলেও দেশে তার বিপরীতে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এক মাসে দুদফায় প্রতি লিটার সয়াবিনে দাম বাড়িয়েছেন ৫১ টাকা। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৭৬৫ ডলার। ২০২০ সালে দাম ছিল ৮৩৮ ডলার এবং ২০২১ সালে সয়াবিনের টনপ্রতি দাম ছিল ১৩৮৫ ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে একপর্যায়ে তা বেড়ে যায়। মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় ১৯৫৬ ডলার। সর্বশেষ ১৩ জুলাই পাম অয়েলের টনপ্রতি দাম কমতে কমতে ৯৪১ ডলার এবং সয়াবিনের দাম নেমে আসে ১ হাজার ৩৫৩ ডলারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামে ধ্বস হলেও দেশে কমছে না : ক্যাব

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নগরীর পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, এলপিজি ও জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পরবর্তী বিষয়গুলি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময় সভা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির জ্বালানী উপদেষ্ঠা ও দেশের বিশিষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম. শামসুল আলম।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক এম. শামসুল আলম বলেন চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বানিজ্যিক, বন্দর ও শিল্প নগরী। বন্দর নগরী হিসাবে পানি, বিদ্যুত, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে সরকারের অনেক গুরুত্ব প্রদানের কথা থাকলেও এখাতের সরকারি সংস্থাগুলির সাথে সরাসরি আলোচনা ও তাদের প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক অনেক জায়গায় গড়মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা দেশের শিল্প, কলকারখানা ও উৎপাদনে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরী করবে। তবে যেহেতু বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমস্যা, জনগন ও ভোক্তারা অনেক কিছু মেনে নিতে শুরু করেছেন। সরকারের মাঠ পর্যায়ে কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বপালনে গাফলতি থাকলেও নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার অভাব নেই। মাঠ পর্যায়ের অসংগতি ও সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলি সমাধানের জন্য ক্যাব সরকারের নীতি নির্ধারক, মন্ত্রনালয়, এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনে উপস্থাপন করেন। যেখানে ব্যর্থয় ঘটে, সেখানে প্রয়োজনে ভোক্তাদের বৃহত্তর স্বার্থে আইনী প্রতিকার কামনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন পানি, বিদ্যুত ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় অবকাঠামো তৈরী করা হয়ে আছে। কিন্তু উৎসস্থলে সরববরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে সক্ষমতা তৈরী হয়নি। এটা এ সমস্ত সেবার ক্ষেত্রে বড় হুমকি। একটা সময় এসমস্ত খাতে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তুষ্ঠি দানাবেঁধে উঠবে। বিতরণের ক্ষেত্র তৈরীর পাশাপাশি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া চলমান আছে তা সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য শুভকর নয়। কারন ভোক্তাদের মাঝে মানসম্মত ও গুনগত সেবা পৌঁছানো, অধিকতর কমসামর্থবানদের কাছে সেবা নিশ্চিত করা না গেলে বৈষম্যের মাত্রা সামাজিক অস্থিরতা তৈরী করবে। উন্নয়ন প্রকল্পে নাগরিক পরীবিক্ষন না থাকায় সুশাসনের ঘাটতির কারনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো স্থায়ী বাসা বাঁধছে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনে সকল পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষমতা ও প্রভাব এত বেশী হয়ে আছেন, যেখানে সবকিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। সোখানে জেলা পর্যায়ে সরকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন প্রয়োজন অনিয়ম ও ভোগান্তির বিরুদ্ধে তৃণমূলে জনগনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যা রেলের অনিয়ম নিয়ে মহিউদ্দীন রনি শুরু করেছেন।

মুক্ত আলোচনায় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী বিদ্যুত ও গ্যাসে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে সেবা সংস্থাগুলোর দীর্ঘসুত্রিতা, লোডশেডিং এ অব্যবস্থাপনা, গ্যাস ও পানি সরবরাহে ঘোষনাছাড়া সেবা বন্ধ রাখা, চট্টগ্রামে সোয়ারেজ সার্ভিস বিহীন ওয়াসার কর্মকান্ড যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস উৎপাদনে অতিরিক্ত প্রকল্প ব্যয়, প্রকল্পের ব্যয় মাঝপথে দ্বিগুনেরও বেশী বাড়ানো, প্রকল্পে ধীর গতির দায়ভার জনগনের ওপর সুদের বোঝা বাড়াচ্ছেন বলে মত প্রকাশ করেন। বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মাঝে পৌছাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দামে ধ্স হলেও দেশে সমন্বয়ে অহেতুক বিলম্ব কার স্বার্থে ? নাজের বলেন,দেশে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যতটুকু আগ্রহী, দাম কমলে কমাতে তেমন আগ্রহী না হবার কারনে ভোজ্যতেলের বাজারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দীর্ঘদিনেও দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম সমন্বয় হয় না। আবার আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমলে ব্যবসায়ীদের উল্টোসুর বেশী দামে কেনা বা বুকিং রেট বেশীসহ নানা অজুহাত। আর্ন্তজাতিক বাজারে ক্রমাগতভাবে দাম কমার পরও দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বানিজ্য মন্ত্রী একাধিক বার আশ্বাস দিলেও সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি। একই সাথে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কী শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে? এই কমিশনের একপক্ষীয় কাজ করলে তা আইনের বরখেলাপ এবং বিষয়টি দেশের ভোক্তা স্বার্থের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধক বলে মন্তব্য করছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ইং আর্ন্তজাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ক্রমাগত কমার কারনে দ্রুত দেশে দাম সমন্বয়ের দাবিতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, যখন বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তি ছিলো, তখন পণ্যটি আমদানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ছাড়াও ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট ছাড়, এলসি কমিশন ও এলসি মার্জিন প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ওই সুবিধা নিয়ে আমদানিকারকরা তেল দেশের বাজারে আসলে দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত ঘটেছে এবং ভোক্তারা তার কোন সুফল পায়নি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, দেশে তার বিপরীতে বাড়ানো হচ্ছে? আবার ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের উল্টো সুর, ভোজ্যতেলের এফওবি দাম কমলেও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা ভৌতিক কারণে দাম আগের অবস্থানে ফিরছে না বলে দাবি করেন। যা ব্যবসায় সুশাসন, ব্যবসায়িক নীতি নৈতিকতাকেও প্রশ্নের মূখে ফেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে ক্যাব সহ-সভাপতি আরও বলেন, দাম বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে দেখা যায়-গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম পাঁচবার উঠানামা করেছে। এর মধ্যে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারসাজিতে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বেসামাল হয় ভোজ্যতেলের বাজার। ফলে অক্টোবরে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন লিটার ১৬০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য গত রমজানের ঈদের পর ৫ মে’২২ দেশে ভোজ্যতেলের দাম সরকার পুনর্র্নিধারণ করেছিল। ওই সময়ে সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি রেকর্ড পরিমান বাড়িয়ে ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিলো। এরপর বিগত ৯ জুন কোন প্রকার কারণ ছাড়াই মিল পর্যায়ে ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৮০ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৮২ টাকা ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৯৫ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৯৯ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক লিটারের খোলা পাম অয়েলের (সুপার) দাম মিলগেটে ১৫৩ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৫৫ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫৮ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে সয়াবিনের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি ৫-৭ টাকা। আর্ন্তজাতিক বাজারে তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ২০০-৪৯০ ডলার কমলেও দেশে তার বিপরীতে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এক মাসে দুদফায় প্রতি লিটার সয়াবিনে দাম বাড়িয়েছেন ৫১ টাকা। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৭৬৫ ডলার। ২০২০ সালে দাম ছিল ৮৩৮ ডলার এবং ২০২১ সালে সয়াবিনের টনপ্রতি দাম ছিল ১৩৮৫ ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে একপর্যায়ে তা বেড়ে যায়। মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় ১৯৫৬ ডলার। সর্বশেষ ১৩ জুলাই পাম অয়েলের টনপ্রতি দাম কমতে কমতে ৯৪১ ডলার এবং সয়াবিনের দাম নেমে আসে ১ হাজার ৩৫৩ ডলারে।