মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দেশে জ্বালানি সংকট হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. হুমায়ুন কবির। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘প্রবাসীদের নিরাপত্তা, সহয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তৎপর।’
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের যে মজুত রয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। অতীতেও দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি খাতে কিছু ওঠানামা হতে পারে। তবে সেসব মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগীয় বৈঠক ও মন্ত্রীদের বৈঠক নিয়মিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সংক্রান্ত বিষয়েও আজ তথ্য দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং ওআইসি সফর ও বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের ভেতরে থাকা যাত্রী এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের যাতে কোনো দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেও গতকাল বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছি। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সমন্বয় করছি।
উল্লেখ্য, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৬৫-৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এর বেশির ভাগ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এসব পণ্যের বড় অংশ আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। বিশেষ করে দেশে এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একক সরবরাহ উৎস কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের মধ্যকার সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ আর্থিক খাতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।



















