ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাসজুড়েই শীত ও কুয়াশার প্রকোপ অব্যাহত থাকবে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতের কবলে বিপাকে জনজীবন। হিমেল হাওয়ায় শীত যেন বেড়েছে কয়েকগুণ। কুয়াশার কারণে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এই শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষরা।

হাড় হিম করা শীতে ৯ ডিগ্রিতে নেমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চারপাশ। এতে ক্রমেই যেন তীব্র হচ্ছে শীতের অনুভূতি। এই অবস্থায় নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের ৯ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, রোববার ও সোমবার (৪-৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও দাপটে থাকতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। তবে রোববার ও সোমবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরমধ্যে রোববার কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যে জানা যায়, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, জানুয়ারি মাসজুড়েই শীত ও কুয়াশার প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সোমবার মধ্যরাত থেকে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।’ ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে কুয়াশার প্রভাবে সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, শীতের কষ্টে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এই তিন দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এরমধ্যে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পাশাপাশি বুধবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আর বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রাজশাহী
রাজশাহীতে আজ তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে থেকেই ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত রাজশাহী। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাবু এই জনপদে মিলছে না সূর্যের দেখা। কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে নগর জীবন। বেশি বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

যশোর
যশোরে ক্রমেই শীতের দাপট বাড়ছে। আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার দৃষ্টিসীমা ৫০ মিটার। কুয়াশার তীব্রতায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। সময়মতো ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী পাচ্ছেন না কাজের সন্ধান।

চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আজ চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমনকি টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে চুয়াডাঙ্গাবাসী। শীতের অসহনীয় মাত্রায় দৈনন্দিন কাজ ব্যহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেননা কেউ।

দিনাজপুর
দিনাজপুরে অব্যাহত রয়েছে শীতের প্রভাব। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে সূর্যের তাপ তেমনভাবে অনুভূত না হওয়ায় শীতের কনকনে ভাব কাটেনি।

পাবনা
পাবনা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। রোববার (৪ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল শনিবার ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর গত শুক্রবার ছিল এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, মৃদু শৈতপ্রবাহ আর উত্তরের ঠান্ডা বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। সকাল থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। দুপুরের পর কুয়াশা কেটে রোদ উঠলেও শীত কমছে না। ছিন্নমূল আর দরিদ্র মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

শীতের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাসজুড়েই শীত ও কুয়াশার প্রকোপ অব্যাহত থাকবে

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতের কবলে বিপাকে জনজীবন। হিমেল হাওয়ায় শীত যেন বেড়েছে কয়েকগুণ। কুয়াশার কারণে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এই শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষরা।

হাড় হিম করা শীতে ৯ ডিগ্রিতে নেমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চারপাশ। এতে ক্রমেই যেন তীব্র হচ্ছে শীতের অনুভূতি। এই অবস্থায় নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের ৯ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, রোববার ও সোমবার (৪-৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও দাপটে থাকতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। তবে রোববার ও সোমবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরমধ্যে রোববার কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যে জানা যায়, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, জানুয়ারি মাসজুড়েই শীত ও কুয়াশার প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সোমবার মধ্যরাত থেকে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।’ ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে কুয়াশার প্রভাবে সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, শীতের কষ্টে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এই তিন দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এরমধ্যে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পাশাপাশি বুধবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আর বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রাজশাহী
রাজশাহীতে আজ তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে থেকেই ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত রাজশাহী। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাবু এই জনপদে মিলছে না সূর্যের দেখা। কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে নগর জীবন। বেশি বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

যশোর
যশোরে ক্রমেই শীতের দাপট বাড়ছে। আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার দৃষ্টিসীমা ৫০ মিটার। কুয়াশার তীব্রতায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। সময়মতো ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী পাচ্ছেন না কাজের সন্ধান।

চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আজ চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এমনকি টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে চুয়াডাঙ্গাবাসী। শীতের অসহনীয় মাত্রায় দৈনন্দিন কাজ ব্যহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেননা কেউ।

দিনাজপুর
দিনাজপুরে অব্যাহত রয়েছে শীতের প্রভাব। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে সূর্যের তাপ তেমনভাবে অনুভূত না হওয়ায় শীতের কনকনে ভাব কাটেনি।

পাবনা
পাবনা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। রোববার (৪ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল শনিবার ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর গত শুক্রবার ছিল এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, মৃদু শৈতপ্রবাহ আর উত্তরের ঠান্ডা বাতাসে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। সকাল থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। দুপুরের পর কুয়াশা কেটে রোদ উঠলেও শীত কমছে না। ছিন্নমূল আর দরিদ্র মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

শীতের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।